শীতের মৌসুমে জয়েন্টে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা সাধারণত বেড়ে যায়। শীতকালে সূর্যস্নান করলে এসব সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়।
প্রাচীনকালে লোকেরা একসাথে বসে তাদের উঠোনে বা বাড়ির সামনে ধূপ জ্বালাতেন । শীতকালে এটি একটি সাধারণ দৃশ্য ছিল। রোদে বসে মানুষ হাতে-পায়ে সর্ষের তেল মালিশ করত।
এর ফলে প্রচুর ভিটামিন ডি তারা পেতেন এবং সুস্থ থাকতেন। কিন্তু এখন কার ব্যস্ত সময় সূর্যস্নান, সর্ষের তেল মালিশ কোনটি হয় না। তাই শরীরের নানান রাগ ব্যাধি লেগেই থাকে।এমতাবস্থায় আজকের সময়ে সূর্যালোকের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বোঝা আমাদের জন্য জরুরী।
ভিটামিন ডি এর সেরা উৎস: সূর্যের রশ্মি ভিটামিন ডি এর একটি প্রাকৃতিক উৎস। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকলেই শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সক্ষম হয়।
হাড়ের শক্তির জন্য আমরা ভিটামিন ডি ট্যাবলেট খেয়ে থাকি, কিন্তু আপনি যদি সূর্যস্নান করেন তাহলে শরীর প্রাকৃতিক উৎস থেকে ভিটামিন ডি পাবে। এটি হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: শরীর সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে শ্বেত রক্তকণিকা অর্থাৎ হোয়াইট ব্লাড সেল (ডব্লিউবিসি) পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হতে পারে, যা শরীরে যেকোনো রোগের ঝুঁকি কমায়। এর পাশাপাশি সূর্যের আলো থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারণ সূর্যের আলো আমাদের শরীরকে অনেক ধরনের সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করে।
হজম ভাল হয়: গ্যাস্ট্রাইটিসের মাধ্যমে শরীরে হজম হয়। সূর্যালোক গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রাইটিস বেশি সক্রিয় থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
শীতকালে রোদে কিছু সময় কাটান, তাহলে হজম প্রক্রিয়াও শক্তিশালী হবে এবং পেটের ছোটখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হবেন।
ভালো ঘুম হয় : আমাদের শরীরে সূর্যের আলোতে মেলাটোনিন হরমোন তৈরি হয়, যার ফলে ভালো ঘুম হয়। যদিও এই হরমোন মানসিক চাপ দূর করতে কাজ করে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ এবং সুন্দর ঘুমের দিকে পরিচালিত করে, যা শরীরকে সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো থাকে।
কোলেস্টেরল কমায়: নিয়মিত সূর্যস্নান করেন তবে এটি কোলেস্টেরলও কমায়। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি হৃদরোগ ইত্যাদির উন্নতির সম্ভাবনা থাকে।
No comments:
Post a Comment