মায়ের দুধ নবজাতক শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য একটি ওষুধ হিসেবে প্রমাণিত। বুকের দুধ শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তি জোগাতে সহায়ক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে মায়েদের তাদের বাচ্চাদের রোগ থেকে দূরে রাখতে অবশ্যই বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
এটি সন্তানের জন্য যেমন উপকারী তেমনি মায়ের জন্যও সমান উপকারী। একটি গবেষণায় এটাও বলা হয়েছে যে একজন স্তন্যদানকারী মায়ের জীবনে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
বুকের দুধ খাওয়ানো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কিন্তু প্রাথমিক সময়ে এটি এত সহজ নয়। শিশুকে সঠিকভাবে ধরে রাখা, কখন খাওয়াতে হবে তা বোঝা এবং সঠিক খাওয়ানোর অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। আসুন জেনে নিই এমনই ৭টি টিপস যা নতুন মাকে বুকের দুধ খাওয়াতে সাহায্য করবে।
সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। এই সময়কালে আপনি একা নন, আপনি আপনার শিশুর জন্মের আগে এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে পর্যন্ত সাহায্য চাইতে পারেন। আপনি যদি চান, বাড়িতে কাউকে জিজ্ঞাসা করুন, কথা বলুন বা বাইরের ল্যাক্টেশন কনসালটেন্টের সাহায্য নিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বাচ্চা হওয়ার পরে, তাকে দিনে ১০ থেকে ১২ বার বুকের দুধ খাওয়াতে হতে পারে। তাই আপনার জায়গাটি আরামদায়ক কিনা তা নিশ্চিত করুন। চেয়ারে বসা এড়িয়ে চলুন এবং টিভির সামনে বসে বুকের দুধ খাওয়াবেন না। ঘরের একটি কোণে বা সুবিধাজনক জায়গায় বসুন।
শিশুকে ঠিকমতো বসাও: বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর কোলে ঠিকমতো না থাকলে সে দুধ খাওয়াতে পারবে না। মহিলারা তাদের স্তনে বেশি দুধ তৈরি করতে পারবেন না, অন্যদিকে তাদের স্তনের বোঁটায়ও সমস্যা হতে পারে।
শিশুদের ক্ষিদে পেলে তারা বলতে পারে না, তাই তাদের গতিবিধির দিকে মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের কান্নার আগেই এই লক্ষণগুলির দিকে খেয়াল রাখুন কারণ কান্নার সময় তারা ঠিকমতো খেতে পারে না। কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শিশুরা তাদের জিহ্বা বের করে রাখা, তাদের হাত তাদের মুখের কাছে নিয়ে যাওয়া, তাদের ঠোঁট চাটা এবং অস্থির হওয়া। এই লক্ষণ গুলোর মানে শিশুদের ক্ষিদে পাওয়া।
ক্যালরি প্রচুর হওয়া উচিৎ : বিশেষজ্ঞদের মতে, বুকের দুধ খাওয়ানো খুবই কঠিন কাজ। শিশুকে খাওয়ালে দিনে প্রায় ৭০০ ক্যালোরি পোড়া হয়। নারীদের উচিৎ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা। খাবারে সবুজ শাক-সবজি, তেঁতুলের বীজ, গোটা শস্য, বাদাম এবং ফ্ল্যাক্সসিড খান।
No comments:
Post a Comment