গরুর মহিমা উদযাপনের উৎসব হল গোবৎস দ্বাদশী। এবার ২ নভেম্বর। এই প্রদোষব্যপিনীতে তিথি নেওয়া হয়। সেই দিন গরু চরিয়ে ফিরে এলে গন্ধ ইত্যাদি দিয়ে গরু বাছুরকে পূজা করে এই মন্ত্র পাঠ করে তার সামনের পায়ে অর্ঘ্য নিবেদন করুন- ক্ষীরোদর্নবসম্ভুতে সুরসুরনামাস্কৃতে। সর্বদেবমায়ে মাতৃগৃহার্ঘ্য নমো নমঃ ॥
অর্থাৎ সমুদ্র মন্থনের সময় ক্ষীরসাগর থেকে যে ধ্বনি নির্গত হয় এবং দেবস্বরুপিণী মাতা (গরু মাতা) যাকে দানবরা নমস্কার করেন, আমি তোমাকে বারবার নমস্কার করছি। আমার এই প্রার্থনা গ্রহন করুন। এবং এই মন্ত্রটি দিয়ে প্রার্থনা করুন - সুরভি ত্বাম জগন্মাতারদেবী বিষ্ণুপদে স্থিতি। সর্বদেবময় গ্রাসম মায়া দত্তমীমান গ্রাস। তাতঃ সর্বময়ে দেবী সর্বদেবৈরলংকৃতে। মাতরমভিলাষিতম্ সফলম্ কুরু নন্দিনী।
অর্থাৎ হে জগদম্বা! হে স্বর্গীয় দেবী! হে সর্বজ্ঞ! আমার এবং মা নন্দিনী দ্বারা প্রদত্ত এই অন্ন তুমি গ্রহণ কর, সকল দেবতা দ্বারা শোভিত, আমার মনোবাঞ্ছা পূরণ করুন।
গোবৎস দ্বাদশী উপবাস হল মা ও সন্তানের ভালোবাসার গুণগান। যদি দেখা যায়, গরুকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা ও স্বীকৃতি দিয়েছেন কৃষ্ণ। তিনি নিজেই গোবিন্দ হয়ে গেলেন। মহাভারতের অশ্বমেধিক উৎসবে গরুকে সর্বশক্তিমান বলা হয়েছে।
টাকা থাকলে দুধ দেয় এমন সুস্থ গাভী দান করতে হবে। অন্তত পাঁচ, দশ বা ষোল বছর এই উপবাস পালন করলেই উদযাপন করা উচিৎ । যে ব্যক্তি এই উপবাস পালন করে, সে উৎকৃষ্ট ভোগ সহ মৃত্যুর পর গোলোকধাম লাভ করে।
যাদের সন্তানরা শনির সারেসতি (ধনু, মকর এবং কুম্ভ রাশি) এবং ধৈয়া (মিথুন, তুলা রাশিতে ভুগছে) তাদের এই উপবাস নিজেরাই পালন করা উচিৎ । স্বাস্থ্য ভালো না হলে এই উপবাস সন্তানের করা উচিৎ । এই দিনে গরুকে নিজ হাতে সবুজ চারণ খাওয়াতে হবে। গরু-বাছুর না থাকলে শুধু গরু-বাছুরের তৈরি মূর্তি পূজা করুন।
মনে রাখবেন এই দিনে গরুর দুধ, দই, ঘি, বাটার মিল্ক, ক্ষীর, তেলে রান্না করা ভুজিয়া-ডাম্পলিং বা অন্য কোনো পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে গ্রহণ করবেন না।
No comments:
Post a Comment