আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বেশি বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু মশা ও ভাইরাসজনিত রোগের চক্রও বদলে যাচ্ছে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
রাজধানীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হল অল্প ব্যবধানে হওয়া বৃষ্টি। চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বেশি বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তি ও ভাইরাসজনিত রোগের চক্রও বদলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এই সময় ডেঙ্গুর সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। সাধারণভাবে, অক্টোবরের শেষের দিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমতে শুরু করে এবং নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেস অনেকাংশে শেষ হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা আরো বলছেন, এবার ডেঙ্গুর সংক্রমণ নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে। লোকনায়ক হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডাঃ সুরেশ কুমার জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া ও ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসছে।
আগে, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ দীপাবলির পরে শেষ হয়ে যেত। এবার সেটা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না, কারণ এই মুহূর্তে এর সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে এমনটা হতে পারে।
এবার বৃষ্টি দেরিতে শুরু হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে বর্ষা সক্রিয় ছিল। বর্ষা চলে যাওয়ার পরও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে মশার উৎপাতও বাড়ছে। তাই এবার ডেঙ্গুর সংক্রমণ দীপাবলির পরেও এক মাস স্থায়ী হতে পারে। তাই মানুষকে সতর্ক হতে হবে।
মনিপাল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাঃ চারু গোয়েল জানান, হাসপাতালটি ডেঙ্গু রোগীতে ভরপুর। অনেক রোগীর১০৪ ডিগ্রি থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হয়।
কিছু রোগীর ফুসফুসে জল জমে গিয়ে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্টও দেখা গেছে। ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও জল জমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মশার বংশবৃদ্ধি হবে বেশি।
দিল্লি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ডক্টর অজয় লেখি বলেছেন, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টি হলে সমস্যা আরও বাড়বে। ঠাণ্ডা কয়েকদিন বাড়লেই ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাবে এমনটা ভাবা উচিৎ নয়।
সুরক্ষার জন্য সতর্ক থাকুন এবং মশার বংশবৃদ্ধি করতে দেবেন না। বর্তমান আবহাওয়া ডেঙ্গু মশার জন্য অত্যন্ত অনুকূল। চিকিৎসকদের মতে, ১৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডেঙ্গু মশা সক্রিয় থাকতে পারে, তবে ২০ থেকে ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রা তার জন্য খুবই উপযোগী।
No comments:
Post a Comment