প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক: 'কাশ্মীরি মুসলমানদের জন্য আওয়াজ তুলবে', তালেবান মুখপাত্রের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে আসা এই বিবৃতি শিরোনামে রয়েছে। যদিও, এখন ওই মুখপাত্র দাবী করেছে যে তার বলা কথা বিকৃত করা হয়েছে। তালেবান মুখপাত্র সুহেল শাহীন স্পষ্ট করে বলে য, কাশ্মীর হল ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক বিষয় এবং তাদের সংগঠন এতে হস্তক্ষেপ করবে না।' এতে আরও বলা হয়েছে যে, আফগানিস্তানের ভূমি অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না। আর তালেবানের এই অবস্থান পাকিস্তানের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে, যারা সম্প্রতি আফগানিস্তান দখল করে থাকা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সাহায্যের আশায় বসে রয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র বিবিসি উর্দু কর্তৃক প্রকাশিত তার বক্তব্যকে ভুল বলে ব্যাখ্যা করে। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে (ফোন মারফৎ) তিনি বলে, কাশ্মীরি মুসলমানদের নিয়ে তার বলা কথা যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে সে নিজেও অবাক হয়েছে। তার বক্তব্য ব্যাখ্যা করে সুহেল বলে, ভারত যেভাবে হিন্দু বা শিখদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কথা বলে, ঠিক একইভাবে আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কথাবার্তায় আমাদের অবস্থান রাখব। তালেবান মুখপাত্র আফগানিস্তানে শিখদের পবিত্র নিশান সাহেবকে ছোট করার ঘটনা উল্লেখ করে উদাহরণ দেয়।
সুহেল বলে, "ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সমস্যা হল কাশ্মীর এবং আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে তারা এই সমস্যার সমাধান করুক। আমি বিবিসিকে বলেছিলাম যে, আফগানিস্তানে যদি হিন্দু ও শিখদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, যেমন পতাকার সমস্যা ছিল, বলা হয়েছিল যে তালেবানরা পতাকা সরিয়ে দিয়েছে, যদিও এমনটা ছিল না। আমি বলেছিলাম যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হলে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করব, এটা স্বাভাবিক। জানি না তারা কীভাবে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করল, আমিও অবাক হয়েছিলাম।"
সুহেল আরও বলে, “আমরা যা বলি, তাই করি। আমাদের সংস্থা কোনও দেশে হস্তক্ষেপ করবে না বরং আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের দিকে মনোনিবেশ করবে। আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আমাদের মতামত দেব, তার মানে এই নয় যে, আমরা বন্দুক হাতে নিয়ে হস্তক্ষেপ করব।"
চীনে উইঘর মুসলমানদের প্রতি হওয়া অত্যাচার প্রসঙ্গে তার বক্তব্য জানতে চাইলে সুহেল বলে, "চীন আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আর একটিৎপ্রতিবেশী দেশ হিসেবে তারা চায় যে আফগানিস্তানকে পুনর্গঠন করা হোক। আমরা আমাদের কূটনৈতিক বৈঠকে এই সব বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলব।"

No comments:
Post a Comment