প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক: চড়ুই পাখি যা আমরা সবাই দেখে বড় হয়েছি। এই ছোট্ট পাখিটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির আঙ্গিনায় কিচিরমিচির করত। এই কালো এবং বাদামী পাখি, যাকে দেখে আমরা আমাদের শৈশব কাটিয়েছি,তা আজ খুব কমই দেখা যায়। কোথায় আছে? এই ছোট্ট চটপটে পাখিটি কেন অদৃশ্য হয়ে গেল? মানুষই কি তাদের বিলুপ্তির জন্য দায়ী?
একটি অনুমান অনুসারে, আজ মাত্র ২০ শতাংশ চড়ুই পাখির অস্তিত্ব রয়েছে। যদি আমরা পৌরাণিক বিশ্বাসের কথা বলি, তাহলে চড়ুই পাখিকে একটি শুভ পাখি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে,যে ঘর বা আঙ্গিনায় চড়ুই সবসময় কিচিরমিচির করে, সেখানে সুখ এবং শান্তি থাকে।
ভারতের বিহার রাজ্যে চড়ুই পাখির সুরক্ষার উদ্দেশ্যে বা এটিকে বাঁচানোর জন্য এই পাখিকে রাষ্ট্রীয় পাখি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শুধু বিহারই নয়, অন্য কয়েকটি রাজ্যও চড়ুইকে রাষ্ট্রীয় পাখি হিসেবে ঘোষণা করেছে, কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে এত কিছু করার পরও মানবজাতি এই পাখিকে বাঁচাতে পারছে না।
দিন দিন তাদের সংখ্যা কমছে। আজকের শিশুরা হয়তো সেই পাখির এক ঝলকও দেখেনি যার কিচিরমিচির শুনে আমরা বড় হয়েছি।
একটি গবেষণা অনুসারে, শহরে মোবাইল টাওয়ারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়ুই পাখির সংখ্যাও কমতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, এই টাওয়ারগুলি থেকে কিছু বিশেষ ধরনের তরঙ্গ বের হয়। এই তরঙ্গ চড়ুই পাখির উর্বরতাকে প্রভাবিত করে।
আপনি জেনে অবাক হবেন, কিছু সময় আগে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণা করেছিল। যেখানে বলা হয়েছিল যে পাখিবিদদের মতে চড়ুইদের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কমেছে। এই পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক।
এই দরিদ্র অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, ২০১০ সালের ২০ মার্চ প্রথমবারের মতো স্প্যারো দিবস পালিত হয়েছিল। এর পিছনে একমাত্র উদ্দেশ্য এই ছোট্ট পাখিটিকে বাঁচানো,যাতে আগামী প্রজন্মও সুযোগ পায় তার কিচির মিচির শব্দ শুনার।

No comments:
Post a Comment