নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: কাঁদছে কাবুল, ফুটছে ঘরবাড়ি, শেষ সম্বল। বিমানবন্দরে মানুষের বেঁচে থাকার আর্তনাদ যেন বিভীষিকার অন্য নাম। এমন দৃশ্যের সাক্ষী যে কোনদিন হতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি আটকে পড়া বাঙালিরা। বন্দুক উঁচিয়ে ধ্বংসলীলা চলছে শহর জুড়ে।
আফগানিস্তানে আটকে পড়া দেশের অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছে অশোকনগরের বাসিন্দা সুজয় দেবনাথ। আড়াই বছর ধরে গুছিয়ে চলছিল সবকিছু। মোটা টাকার বেতনের ভাগ পৌঁছে যাচ্ছিল পরিবারের অ্যাকাউন্টে। হঠাৎই ছন্দপতন। গত কয়েকদিন ধরে তার পরিবারের সদস্যরা ঘনঘন ফোন করে সুজয়ের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। কিন্তু রবিবার কাবুলও তালিবানের দখলে চলে যাওয়ার পর এখন তারা চরম আতঙ্কে।
সোমবার সকালে সুজয় পরিবারকে জানাতে পারেন কাবুল বিমানবন্দরে দেশ ছাড়ার হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। পরিচিতদের ফোনে সুজয় প্রশ্ন করেন, যুদ্ধ শেষ। স্বাধীন আফগানিস্তান গোটা বিশ্বকে এমন বার্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ভাবমূর্তি উদ্ধারে মরিয়া তালিবান বাহিনী। কিন্তু বাস্তবে কি সত্যিই যুদ্ধ শেষ হয়েছে? স্বাধীন হয়েছেন সেখানকার মানুষ? তাহলে কেন মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও প্লেনের টায়ারে চোরে পালানোর চেষ্টা করছে মানুষ?
পেটের টানে কাজে যাওয়া সুজয় দেবনাথের অশোকনগরের এজি কলোনিতে বাড়িতে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাবড়ার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রতিনিধি দল একইভাবে হাবড়া থানা পুলিশও তাদের বাড়িতে আসে। তার পরিবার পরিজনদের মধ্যে একটা শোকের পরিবেশ নেমেছে।
পাশাপাশি একই দশা অশোকনগর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুচিদিন পাড়ার বাসিন্দা অজয় মজুমদারের বাড়িতে। ৪ মাস আগে তিনি কাবুলে যান। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবানরা পুরোদস্তুর কব্জা করে ফেলেছে। সেখানেই বর্তমানে আটকে রয়েছেন বহু আমেরিকান সৈনিক। তাদের প্রতিদিনের খাবার বন্দোবস্ত করতে কিছু ভারতীয় নাগরিক যারা হোটেল ম্যানেজমেন্টের কর্মসূত্রে ওই দেশে আছেন, তাদেরও আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনই দাবী তাদের পরিবারের। এই তালিকায় রয়েছে অজয়ের পরিবারও। বৃদ্ধ বাবা-মা সহ দুই বোন দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন। পরিবার সহ এলাকার মানুষের চাইছেন, যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসুন এলাকার ছেলে।


No comments:
Post a Comment