প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক : স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ফের মিলছে না চিকিৎসা পরিষেবা। এমনই অভিযোগ উঠেছে আসানসোলের কুলটি থানার অন্তর্গত এক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে কুলটি ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি শুভাশিস মুখার্জী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিনিময়ে কেন চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না ? তবে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না মেলায় কুলটি ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ওই বেসরকারি হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
এই বিষয়ে রোগীর পরিজনদের সঙ্গে কথা বললে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য । রোগীর পরিজনরা ক্যামেরার সামনে বলেন, তাদের পথ দুর্ঘটনার ফলে আহত অবস্থায় এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় এবং হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখে বেড নেই বলে জানানো হয় রোগীর পরিজনদের। অভিযোগ বিনা চিকিৎসায় বেশ কিছুক্ষণ রেখে দেওয়া হয় ওই পথ দুর্ঘটনার রোগীকে।
রোগীর পরিজনরা বলেন, যদি ধার করে টাকা এনে হাসপাতালে জমা করা মাত্র চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়। তাহলে পরিষেবা না পাওয়া গেলে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করার কী দরকার? এই বিষয়ে কুলটি ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শুভাশিস মুখার্জী বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মানুষের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিনিময়ে চিকিৎসা করার সুবিধা করে দিয়েছেন। কিন্তু এই হাসপাতালে কোনও রোগী এলে বেড নেই বলা হয় । আবার সেই রোগীর পরিবার যখন টাকা জমা দেয় তখন বেড ও চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়। হাসপাতালে দুর্ব্যবহার পর্যন্ত করা হয় ।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ক্যামেরার সামনে ক্যামেরা বন্ধ করতে বলেন । সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাহুবলি শক্তি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের টাকা লুটের চক্রান্ত করছে এই বিষয়ই পরিস্কার হল।
স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডের বিনিময়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে CMOH কে। CMOH আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান কুলটি ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শুভাশিস মুখার্জি। তবে এই খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকের ক্যামেরা বন্ধ করতে বলেন হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী। জানা গিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী সংবাদ সংগ্রহে বাধার সৃষ্টি ও দুর্ব্যবহার করেন। তবে এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সাংবাদিকরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও দুর্ব্যবহারের কথা কুলটি থানাতে জানালে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালের মালিক ও ওই নিরাপত্তাকর্মীকে কুলটি থানার পুলিশ থানায় ডেকে পাঠান। থানাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ওই নিরাপত্তাকর্মী তার ভুল শিকার করে নেন ।

No comments:
Post a Comment