প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক: ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্রনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যর উপর হামলার প্রতিবাদে সরব হলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। শনিবার বিকেলে কামারহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মারের বদলা পাল্টা মার দেওয়ার নিদান দিলেন তৃণমূল বিধায়ক।
মদন জানান, "এর আগে হাথরস গণধর্ষণ কাণ্ডের পর সেখানে যখন আমাদের তৃণমূলের সাংসদরা গিয়েছিলেন তাদের আটকে দেওয়া হয়েছিল। তারপর এমন অবস্থা হল যে ওদের পাইলট কার দিয়ে নিয়ে যেতে হয়। এবার ত্রিপুরাতে প্রথমে অভিষেক ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলা হল, এবার দেবাংশুর মতো ভারতের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ছাত্র নেতার উপর হামলা চালানো হল। এর অর্থ দেবাংশুর মত একটি শিশুকে মোদী-অমিত শাহ সরকার ভয় পাচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাচ্ছি না, আসলে আমাদের পায়ের তলার মাটি শক্ত আছে। কিন্তু বিজেপির পায়ের তলার মাটি আলগা হয়ে গেছে। আমরা ইতিমধ্যেই সমীক্ষা করে এটা জানতে পেরেছি যে, ত্রিপুরায় ২৫ লাখ ভোটের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২২ লাখ আমাদের পক্ষে চলে এসেছে।"
মদন আরও বলেন, "আমি খুব শিগগিরই ত্রিপুরা যাচ্ছি। কেবল মাত্র দলের নির্দেশের অপেক্ষায়। সেখানে এক মাস থাকার পরিকল্পনা নিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা সেখানে ক্যাম্প করে থাকবো। ত্রিপুরায় যদি আমাদের আটকে রাখে, তবে এখানে ত্রিপুরা ভবন আটকে থাকবে।"
দেবাংশুর ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। শুধু ওরা নয়, আমরাও মারতে পারি। ত্রিপুরার লোক গুলো ত্রিপুরা হাউসে ওঠে। তাই ওদের মন্ত্রীদের গালে দুটো চড় দিতে কি আছে? কিন্তু আমরা তা দিই না। কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।"
এই ইস্যুতে তিনি ফের বলেন, "দেবাংশুর ওপরে যে হামলা হয়েছে, তাতে আমরা কেবল মাত্র নির্দেশের অপেক্ষায়। মারের বদলা মার-ই হয়। এবার এই মার দুনিয়া পার। আব কি বার, দিদি কি সরকার। যদি কোনদিন লংমার্চ শুরু হয়ে যায় তাহলে আমি আশ্চর্য হব না। বেনারস-কানপুর-পাটনা হয়ে যে লংমার্চ করা যেতে পারে তা মমতা ব্যানার্জি ভেবে রেখেছেন।
তিনি বলেন, "আমরা বলেছিলাম খেলা শুরু হবে কিন্তু খেলা এখন শেষ। ওদের (বিজেপি) দুই গালে দুটো থাপ্পর দিয়েছি, ২১৩ টি আসন আমরা জয়লাভ করেছি, তার পরেও ওদের সাধ মেটেনি। এরপরে ওদের যে বাউন্সারটা দেব, তাতে আমার মনে হয় মোদি-অমিত শাহদের আশ্রয় নেওয়ার জন্য কোন বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের সাহায্য নেওয়া উচিৎ।"
নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে মদন মিত্র জানান, "আমি খবর পেয়েছি যে মুকুলের শরীরটা ভালো নেই। হতে পারে কারণ এতটা পারিবারিক চাপ, কয়েকদিন আগে স্ত্রীও প্রয়াত হয়েছেন। তবে আমি কোন সহকর্মী নিয়ে মন্তব্য করি না।"

No comments:
Post a Comment