সৌমিতা চক্রবর্তী: বাংলায় বাম-কংগ্রেসকে মুছে দিয়ে তৃণমূলের মিশন এখন ত্রিপুরা। বাংলার মতন ত্রিপুরাও কি বিজেপি বনাম তৃণমূল রাজনীতি দেখতে চলেছে ? বাংলায় তৃণমূল তিন সরকার গঠনের পর দুই কমরেড পাশাপাশি বসেছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে। একদা কমরেড ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতন বড়ো বাম আর নেই। পাশে বসে আরেক একদা বামপন্থী তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে করলেন সমর্থন।
বিজেপির বহু নেতা বলে থাকেন, তাদের শত্রু বাম-কংগ্রেস। ১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর মিশন ছিল কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়া। ১৪ এবং ১৯-এ কোমর ভাঙা কংগ্রেস ২৪ সালে যে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, তা রাহুল গান্ধীকে দেখে দেশ বুঝে গেছে। বাংলায় বিজেপির ২ থেকে ৭৭ বিধায়ক ভোট রাজনীতিতে জিতেছে। তেমনই বাম ও কংগ্রেস একে অপরের হাত ধরে শূন্য হল বঙ্গ রাজনীতির বুকে। অর্থাৎ বিজেপির বৃদ্ধি।
ত্রিপুরায় বিজেপির উল্টো দিকে আছে বাম। বামের বদলে তৃণমূলকে বিরোধীতা করার জায়গা দিলে বাম নিধন সম্পূর্ণ। সংঘ মতাদর্শে চলা বিজেপিও ক্ষমতা দখলের থেকে বেশি গুরুত্ব দেয় দেশ গঠনে। ক্ষমতায় যে একটানা বেশি দিন থাকা যায় না, সবার মত বিজেপিও বেশ জানে। বিজেপির অবর্তমানে বাম কংগ্রেসের থেকে বরং তুলনায় বেশী ভালো তৃণমূল কংগ্রেস।
বাম ও ডানপন্থী বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদী জামানা দেশের রাজনৈতিক গ্লোব পরিবর্তন করে দিতে পারে। বিজেপি কেন্দ্রে এবং বহু রাজ্যে ক্ষমতায় থেকেও নিজে জেতার জন্য মেশিনারি ব্যবহার করে নি বরং ভোটারদের ওপর নির্ভর করেছে। তাতে কোথাও হেরেছে, কোথাও জিতেছে। বিজেপি বেশ কিছু রাজ্যে ক্ষমতায় বসতে না পারলেও একক ভাবে বিজেপির বৃদ্ধি কমেনি কোথাও বরং বেড়েছে। মহারাষ্ট্র, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভা নির্বাচন বড় প্রমাণ।
দেশের মানুষ দীর্ঘ কংগ্রেস শাসন আর বাম শাসিত রাজ্যের মানুষ কংগ্রেস-বামের রাজনৈতিক রসায়নের ওপর আস্থা হারিয়েছে। মানুষের এই আস্থা হারানোকে সদ্ব্যবহার করেছে বিজেপি এবং তৃণমূল। কংগ্রেস ও বাম নিয়ে যতটা বিজেপি তৎপর, তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি ততটাই নরম। ত্রিপুরাতেও বিজেপির রাজনৈতিক ছক সফল হলে বিজেপি তৃণমূলের লড়াই দেখা যাবে, আর বাম কংগ্রেস হবে শূন্য।
No comments:
Post a Comment