ছেলেকে ছেড়ে বাবাকে বিয়ে করলেন উত্তর প্রদেশের এক কিশোরী। বৌমাকে বিয়ে করে সংসার ছেড়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করে বাবা। আরটিআই করে ছেলে বাবার ঠিকানা খুঁজে হাজির হয়ে নিজের বৌকে সতমা রূপে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।
উত্তর প্রদেশের বদায়ুনের বসবাসরত এক যুবকের বাবা বদায়ুনের জেলা পঞ্চায়েতের রাজ বিভাগে সুইপার হিসাবে কাজ করেন। একদিন হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। বাবা নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে তার বেতন ঘরে আসা বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে ঘরে আর্থিক সঙ্কট শুরু হয়।
এদিকে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অনেক আগে, যুবকের স্ত্রীও তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। দুজনেই 2016 সালে বিয়ে করেছিলেন। দুজনই তখন নাবালক ও নাবালিকা ছিলেন। প্রায় এক মাস একসাথে থাকার পর দুজনের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয় এবং স্ত্রী মাতৃগৃহে ফিরে আসেন। আত্মীয়রা সে সময় মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও স্ত্রী বলেছিলেন যে যুবকটি মদ পান করে। সুতরাং সে আর ফিরে যাবে না। এর পরে সে তার মাতৃগৃহ থেকে ফিরে আসেনি।
অন্যদিকে বাবার সন্ধানের জন্য ছেলেরা বদায়ুনের জেলা পঞ্চায়েত রাজ বিভাগে আরটিআই করে। আরটিআই থেকে পাওয়া গেছে যে যুবকের বাবার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে বেতন তোলা হচ্ছে এবং এখন তিনি সম্ভাল জেলায় বসবাস শুরু করেছেন। যুবকটি তার বাবার সন্ধানে সেখানে পৌঁছে অবাক হয়। আসলে যুবকের স্ত্রী এবং নিখোঁজ বাবা দুজনেই একসাথে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী তাঁর 48 বছরের বাবাকে বিয়ে করেছে শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে ।
এই ঘটনায় হতবাক যুবকটি কী প্রতিক্রিয়া জানাবে তা প্রথমে বুঝতে পারেনি। সৎ মা বলে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ যুবক তার বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য বিসৌলি থানায় ডেকেছিল কিন্তু মহিলা ওই যুবকের সাথে যেতে অস্বীকার করেছেন। মহিলাটি বলেছিল যে সে তার দ্বিতীয় স্বামী অর্থাৎ যুবকের বাবার সাথে খুশি এবং তার সাথে জীবন কাটাতে চায়। এর পরে পুলিশ তাদের ফিরে যেতে দেয়।
এলাকার সার্কেল অফিসার বিনয় চৌহান বলছেন, 'যুবক তার বিয়ের কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। যাই হোক না কেন, অল্প বয়সে বিয়ে আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। সুতরাং এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা যাবে না। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এজন্য উভয় পক্ষকেই পরবর্তী কাউন্সেলিংয়ের জন্য আবারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment