ভোট সাঙ্গ হয়েছে, সাঙ্গ হয়েছে 'বিজেপি যোগদান মেলা' বরং উল্টোসুর সর্বত্র। পদ্ম ছেড়ে ফের ঘাস ফুলের ঘ্রাণ নিতে উদগ্রীব দলবদলুরা। এবারে সেই দলে ভিড়লেন সাংসদ সুনীল মণ্ডল। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই মোহভঙ্গ। যার হাত ধরে তৃণমূলের টিকিটে জেতা এই সাংসদ বিজেপিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তিনি কোনও কথাই রাখেননি। ধরছেন ফোনও না। দমবন্ধকর পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন সুনীল মণ্ডল।
মঙ্গলবার বর্ধমানের উল্লাস উপনগরীর বাড়িতে বসে ‘বেসুরো’ গাইতে শুরু করেন বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রের সাংসদ। এদিন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছেড়ে দেওয়ারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ ঠিক করতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিজেপি নেতৃত্ব এবং বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তৃণমূল আহ্বান জানালে ফিরবেন কি না তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন বলে জানান সুনীলবাবু। তিনি জানান, বড় দল, বড় সংগঠন দেখে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সংগঠনে তাঁরা কোনও গুরুত্বই না কি পাচ্ছেন না তাঁরা। অর্থাৎ এক কথায় মোহভঙ্গ ঘটেছে তাঁদের।
এদিন তিনি বলেন,” অনেকে বলছেন, তৃণমূল থেকে যারা বিজেপিতে এসেছে তারা মানিয়ে নিতে পারছে না। আসলে বিজেপি তাঁদের বিশ্বাস করতে পারছে না। তথাগত রায়, দিলীপ ঘোষরা এদের সম্পর্কে অন্যায় কথা বলছেন। দিলীপ ঘোষ বলেছেন ২০১৯ সালের পর যারা বিজেপিতে এসেছে তাদের আগে বিজেপি হতে হবে। এটা অন্যায় কথা।”
বেসুরো সুনীলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের রাজ্যের মুখপাত্র দেবু টুডু। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মা। আর যারা ক্ষমতার লোভে মায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, গদ্দারি করে তাদের কোনও ঠাঁই নেই। দলই তা জানিয়ে দিয়েছে। সুনীল মণ্ডলের সাংসদ পদ খারিজের জন্য আমাদের দল ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে দেখে এখন ওরা আবার ক্ষমতার স্বাদ পেতে চাইছে।” এব্যপারে অবশ্য বিজেপি একটু চালে খেলতে চাইছে। জেলা নেতৃত্ব বিষয়টি 'জানা নেই' বলে মন্তব্য করে।

No comments:
Post a Comment