জল্পনা আগে থেকেই ছিল। আর সেই জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে ক্রমশঃ। দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রু ছেড়েছেন আগেই। এবারে বিষ্ণুপুরের দিলীপ ঘোষের ডাকা সাংগঠনিক বৈঠকেও হাজির হননি বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ ও যুবমোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। আর এই নিয়েই তুঙ্গে জল্পনা। আজ সন্ধেয় তাঁকে ডাকা হয়েছে যুবমোর্চার বৈঠকে।
বিষ্ণুপুরে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রেই সাংগঠনিক বৈঠক করছেন দিলীপ ঘোষ। ডাক পাওয়া সত্ত্বেও হাজির হননি সৌমিত্র খাঁ। তার উপরে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও ছেড়েছেন। বিজেপি সাংসদের এহেন আচরণে তোলপাড় শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবির সহ রাজ্যের অন্দরে। আজ সন্ধেয় বৈঠক ডেকেছেন যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দাস। ওই বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে সৌমিত্রকে। ডাক পেয়েই তড়িঘড়ি সৌমিত্র ছুটেছেন হেস্টিংসে রাজ্য বিজেপির অফিসে।
দিলীপের ডাকা বৈঠক কেন যাননি এব্যপারে লকডাউনকে কারণ হিসেবে বলেছেন সৌমিত্র খাঁ। আর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়ায় তাঁর ব্যাখ্যা,''অনেক গ্রুপ তৈরি হয় প্রতিদিন। তার কোনও একটা থেকে বেরিয়ে যাওয়া মানেই দল ছেড়ে দেওয়া নয়।'' এদিকে বিজেপি সাংসদকে ফের তৃণমূলে ফিরে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন স্ত্রী সুজাতা। সুজাতার বার্তা,''ওঁর শুভবুদ্ধির উদয় হোক। পুরনো দলে ফিরে আসুন। তৃণমূলের জন্যেই উনি আজ নেতা।'' তবে কি এবারে সৌমিত্রও বেসুরে গাইছেন ? স্ত্রীর সঙ্গে কি রয়েছে পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা ? বলবে আগামী।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে আশানরূপ ফল করেনি বিজেপি। যদিও রাজ্যের বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে গেরুয়া শিবির। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর সেভাবে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়নি সৌমিত্রকে। এবার দলের জেলার মিডিয়া সেলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন তিনি।
সৌমিত্র খাঁ'এর রাজনৈতিক জীবন বেশ দীর্ঘ ও বর্ণময় বটে। প্রথমে কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে বিজেপির সাংসদ তিনি। ২০১১ সালে কোতলপুরে কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন সৌমিত্র খাঁ। পরবর্তীতে বিষ্ণুপুর থেকে তৃণমূলের সাংসদ এবং বর্তমানে বিজেপির সাংসদ এই নেতা।
কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল বেসুরো হচ্ছেন তিনি। গ্রুপ থেকে বেরিয়ে তাতেই কি শিলমোহর পড়লো ? সৌমিত্র খাঁ বলেছেন, ''আমি বিজেপির একজন দায়িত্বপূর্ণ নেতা। প্রথম সাংসদ হিসাবে প্রথম যোগদান করেছি। এরকম কোনো বিষয় নয়। অনেক গ্রুপ তৈরি হয় প্রতিদিন। তার কোনও একটা থেকে বেরিয়ে যাওয়া মানেই বিজেপি ছেড়ে দেওয়া নয়।''
কিছুদিন ধরেই বিজেপিতে একাধিক বেসুরো সুর শোনা যাচ্ছে। তার কারণ হিসাবে বিষ্ণুপুরের সাংসদের স্পষ্ট বক্তব্য, ''যাঁরা ভোটের আগে দলে এসেছেন তাঁদের কথা আলাদা। যাঁরা আড়াই বছর ধরে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করেছেন তাঁদের বিষয়টা আলাদা। এতে দলের কোনও ক্ষতি হয় না।'' বিজেপির হোয়াটস আপ গ্রূপ ত্যাগ করাকে ঘিরে অনেকেই আবার সৌমিত্র-সুজাতার পুনর্মিলনের কথা ভাবছেন। উল্লেখ্য, ভোটের আগে সৌমিত্র জায়া সুজাতা তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর ক্ষুব্ধ সৌমিত্র প্রকাশ্যে সাংবাদিক বৈঠক করে স্ত্রীকে ডিভোর্স নোটিস দেন। কিন্তু সুজাতা অবশ্য সৌমিত্র কেই বরাবর স্বামী হিসেবে মেনে চলার প্রতিজ্ঞা করেন। দুজনই সাংবাদিক বৈঠকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।


No comments:
Post a Comment