বিস্ফোরক পোস্টের জেরে গণ সমালোচনার শিকার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 9 June 2021

বিস্ফোরক পোস্টের জেরে গণ সমালোচনার শিকার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

 


বিস্ফোরক পোস্টের জেরে গণ সমালোচনার শিকার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

রিতা মুখার্জি, কলকাতা: মুখ খুলতেই গণ সমালোচনার মুখে পড়লেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদ-মাধ্যমে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট ও সংবাদ ভাইরাল হতেই সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নানাভাবে সমালোচনা শুরু করেন।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উদ্দেশ্যে বলেন, আগে দলের গোষ্ঠী কোন্দল থামান । আগে নিজেদের দলের মধ্যে চলা বিদ্রোহ সামাল দিন ।এরপর নয় তৃণমূল দলের দিকে আঙ্গুল তুলবেন।

ফেসবুকে অগ্নিভ ভৌমিক লিখেছেন , যখন ওই ছবি নিয়ে বিধান ভবন থেকে বেরিয়ে ছিল তখনই কেমন সন্দেহ হয়েছিল । এবার বিস্ফোরক ডোমজুড়ের প্রাক্তন ঘরের ছেলে। বিগত কয়েকদিন ধরেই লাপাতা আছেন । এমনকি আজকে হেসটিংসে বিজেপির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না । যার ফলে জল্পনা বাড়ছিল চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে। সে এক গল্প ইতিহাসে লেখা থাকবে। তারপর 40 হাজারের বেশি ভোটে হার । তারপর দুম করে গায়েব হয়ে যাওয়া। এই পোস্টে 24 জন কমেন্টস করেছেন। তার মধ্যে কিছু কমেন্টস আছে যা অসাংবিধানিক। আর সেই অসাংবিধানিক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ফেসবুকার অগ্নিভ ভৌমিক। তিনি লিখেছেন যতই   ভোট মিটুক  পাবলিক এখনো খোঁচে আছে।

আর তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন ফলাফল যদি উল্টো হতো তাহলে রাজিব বাবুর মতো নেতারা এ কথা বলতে পারতেন । এনারা যে দলে যান তার উল্টো পথে চলতে বেশি ভালোবাসেন। এই সমস্ত নেতাদের মস্তিষ্কের ভারসাম্য পরীক্ষা করা উচিত । আর সৌগত রায় বলেন রাজিব সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে সম্মানে বাঁধে।




মঙ্গলবার রাজীব ব্যানার্জি নিজের টুইটারে একটি সমালোচনা ছবি পোস্ট করে লেখেন মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে ও মুখ্যমন্ত্রী বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর 356 ধারা জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবে না । আমাদের উচিত আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কভিদ 19 এ দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্টের পর শুরু হয় নতুন করে জল্পনা। প্রশ্ন ওঠে সোনালীদের মত উনি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যেতে চাইছেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক পোস্ট ভাইরাল হতে সামাজিক মাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যমে নড়েচড়ে বসে সমস্ত দলের রাজনীতিকরা ।

বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি তথা  বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে টুইট করে লেখেন  42 হাজার ভোটে হারার পর মনে পড়ল । বিজেপির 42 জনের বেশি কর্মীরা মারা গেছেন। তখন চুপ থাকা মানে শাসক দলকে সমর্থন করা। মোদি সরকার করোনার জন্য ফ্রিতে ভ্যাকসিন অক্সিজেন ও সব রকমের সাহায্য করছে। ঘূর্ণিঝড়ের জন্য মোদীজী  এসেছেন। 400 কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। আরো যা যা ক্ষতি হয়েছে তা কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করবে। আমরা বিরোধী দল আমরা সরকারের গঠনমূলক কাজে সাহায্য করবো। ভুল হলে পথে নামবো আপনি নীরব না থেকে বিজেপি কর্মীদের পাশে থাকলে ভালো হয়। না হলে গাড়ির পিছনে যে ছবিটা আছে সেটা আবার সামনের সিটে নিয়ে আসুন। পরে সৌমিত্র খাঁ আরো একটি টুইট করে লেখেন এটা দলের বক্তব্য নয় এটা সম্পূর্ণ নিজের মতামত।

অতিসম্প্রতি এই সৌমিত্র খাঁ বিজেপির একটি মিডিয়া গ্রুপ থেকে লেফট করার পর শুরু হয়েছিল জল্পনা। প্রশ্ন উঠেছিল তিনিও কি তৃণমূলে যোগ দেবেন। এদিন সেই সৌমিত্র খাঁ বিজেপির বৈঠকে যোগ দিতে এসে বলেন অভিষেক যেদিন বিজেপিতে যোগ দেবে আমি সেদিনই তৃণমূলে যাব। সৌমিত্রের এই মন্তব্যের পর রাজীবকে নিয়ে টুইট সৌমিত্র তৃণমূল যোগে কার্যত জল ঢেলে দেয়।

ফেসবুকার অগ্নিভ ভৌমিক আরেকটি পোষ্টে লিখেছেন, রাজীব দা'কে দলে ফেরত নেওয়ার আগে আজকের পোষ্টের কমেন্ট সেকশানটা তৃণমূল ঘুরে আসুক। তৃণমূলের মন পেতে বিজেপিকে বিরোধীতা করে বেচারা একটা পোষ্ট করল। বিজেপি, সিপিএম, তৃণমূল সবাই মিলে একসঙ্গে গালাগালিতে ভরিয়ে দিল। এদিনের বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন চাটার্ড ফ্লাইটে দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নাকি দলবিরোধী পোস্ট করায় তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। যার কাজ দলের নেতার দলবিরোধী পোস্টে নজর রাখা। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট প্রসঙ্গে অরূপ রায় বলেন, ‘কথায় বলে না, দুরাত্মার ছলের অভাব হয়না। যখন মুখ্যমন্ত্রীর নামে বাজে কথা বলেছিল তখন ভাবা উচিত ছিল। মিষ্টি , মধু মাখা কথা বলে আর লাভ নেই। অনেক সময় শয়তানরা (ডেভিল) চার্চে গিয়ে ভালো কথা বলে। তাতে তারা সৎ হয়ে যায় না।'

এদিকে দল বিরোধী পোস্ট রুখতে তৎপর হয়েছে বিজেপি। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তিনি বলেন দলের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে বিশেষ কমিটি তৈরি করতে চলেছে বিজেপি ।

কমিটিতে থাকবেন সুভাষ সরকার বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী এবং রথীন বসু ।প্রকাশ্যে দল বিরোধী বক্তব্য  রাখা নেতাদের উপর নজর রাখা হবে। বিজেপি যখন ফেসবুকে পোস্ট বন্ধ করতে কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে তখনই একের পর এক পোস্ট করে চলেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় । এখন দেখার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কি শাস্তি পায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad