একুশের নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারে অশোক লাহিড়ীকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু তারপরই রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা সভাপতি দাবি করেছিলেন, 'অশোক লাহিড়ীকে চিনি না।' তিনি অভিযোগ করেছিলেন রাজ্য নেতৃত্ব তাঁকে কিছুই জানায়নি। 'বহিরাগত' তকমা দেওয়া হয় প্রখ্যাত এই অর্থনীতিবিদকে। দলে 'বিদ্রোহ' ঠেকাতে শেষপর্যন্ত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বালুরঘাটে। ভোটে জেতার পর এবার বিধানসভা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি অর্থাৎ PAC -এর চেয়ারম্যান হতে পারেন অশোক লাহিড়ি। সূত্রের খবর তেমনই।
একুশে বাংলার জয়ের স্বপ্ন চুরমার। বিধায়ক সংখ্যা ৭৭, তারমধ্যে তিনজন বিধায়ক পদ গ্রহণ করেননি। তবে রাজ্যে বিধানসভায় বিরোধী আসনে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা মনোনীত হয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান কে হবেন? গেরুয়াশিবিরের অন্দরের খবর, এই পদে বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়িকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কারণ, যে কেন্দ্র তিনি জিতেছেন, সেই বালুরঘাট কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই বামেদের শক্তঘাঁটি। এমনকী, গত লোকসভা ভোটে যখন রাজ্যে দারুণ ফল করেছিল বিজেপি, তখনও বালুরঘাট কিন্তু ছিল বামেদের দখলে। তার উপর একসময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা পদেও ছিলেন অশোক লাহিড়ি।
PAC-র চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন মুকুল রায়ও। স্রেফ বিজেপি সর্বভারতী সহ-সভাপতিই নন, তিনি রাজ্ প্রবীণতম রাজনীতিবিদের অন্যতম। ফলে মুকুলের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে অশোক লাহিড়ির কপালে শিকে ছেঁড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজের অডিটের ক্ষেত্রে PAC-র চেয়ারম্যানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদটি সাধারণভাবে থাকেন বিরোধী দলের কোনও বিধায়ক। এবার কি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি নিজেদের হাতেই রাখবে শাসকদল? জল্পনা চলছিল রাজনৈতিকমহলে। কিন্তু শেষপর্যন্ত এই কমিটি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বিজেপিকেই।

No comments:
Post a Comment