বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগদান মেলা চলছিল অহরহ। ব্যতিক্রম হননি প্রবীর ঘোষাল। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন প্রবীর ঘোষাল। মাতৃ বিয়োগের পর পাশে রইলো সেই পুরোনো দল। খোঁজ নেয়নি বিজেপি। কিছুটা অভিমানী ও পাশাপাশি আবেগী শোনালো তাঁকে। তবে কি আবারও দলবদল করবেন তিনি, জল্পনা উঠছে।
এবার ‘বেসুরো’ গত বিধানসভা নির্বাচনের উত্তরপাড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রবীর ঘোষাল। সম্প্রতি তাঁর মা গত হয়েছেন। অভিমানী প্রবীরবাবু জানান, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মাতৃবিয়োগের পর খোঁজ নিয়েছে। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব কেউ একবার ফোনও করেননি। অথচ আজ থেকে ৩০ বছর আগে যখন পিতৃবিয়োগ হয়েছিল তখন তপন শিকদার, বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দাপুটে বিজেপি নেতারা তাঁর বাড়িতে এসে খবর নিয়েছিলেন। শুক্রবার শ্রীরামপুরের সাংগঠনিক সভায় যেতে না পারার জন্য রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে তাঁর মাতৃবিয়োগের কথা জানান।
জানানোর আগে দিলীপবাবু তার মাতৃবিয়োগের কথাটুকু পর্যন্ত জানতেন না। কিন্তু এই অসময়ে প্রবীর ঘোষাল ব্যতিক্রমী নজির হিসেবে দেখছেন তৃণমূল নেতৃত্বকে। তিনি বলেন, “মা মারা যাওয়ার কয়েকঘন্টার মধ্যে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক ফোন করে সমাবেদনা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। তাই মনের কোণে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি একটা ‘অভিমান’ জন্মেছে বিজেপি নেতা প্রবীর ঘোষালের।
প্রসঙ্গ বদল করে নির্বাচনে হার নিয়েও মুখ খোলেন প্রবীরবাবু। তিনি জানান, দলের উঁচু তলার সঙ্গে নিচু তলার অনেক ফাঁক-ফোকর রয়েছে বলে আজ বিজেপির এই বিপর্যয়। সেই বিপর্যয়ের কারণ এখনও বিশ্লেষণ করা হয়নি। তাঁর এহেন মন্তব্যের পর ফের দলবদলের জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে। তবে কি প্রবীরবাবু ফের তৃণমূলে ফিরছেন ? সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনই সেরকম কোনও চিন্তাভাবনা নেই।” সর্বোপরি মমতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “বিরোধীদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা, বিশ্বাসযোগ্যতা, ভাবমূর্তি এতটাই যে কোনো বিরোধী নেতাই তার ধারেকাছে নেই।” এদিন মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীরবাবু আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে সকলের দুয়ারে নিয়ে যাওয়ার লড়াই করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে যে সাংগঠনিক পরিকাঠামো তৈরি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তার অবদান নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়।”

No comments:
Post a Comment