করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সংশয়ে বোধহয় ছাত্র-ছাত্রীরা। দীর্ঘ একবছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ স্কুল-কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক হবে কি না, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই সংশয়ে পরীক্ষার্থীরা। তবে কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ে হবে উচ্চমাধ্যমিক ও আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে মাধ্যমিক। পরীক্ষা হবে দেড় ঘন্টায়। সেই মোতাবেক প্রস্তুতি নিতেও শুরু করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। স্বস্তি পেয়েছিলেন অভিভাবক ও পড়ুয়ারা। কিন্তু ফের পরীক্ষা বাতিলের গুঞ্জন ছড়ালো। তবে কি বাতিলের পথে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ? যদিও এখনও এবিষয়ে রাজ্যের তরফে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে CBSC বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে বাতিল করা হয় আইএসসিই-ও। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাধ্যমিক -উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কথা ঘোষণা করেন। রাজ্যের পরীক্ষা কীভাবে হবে তা নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়।
নতুন কমিটির তিন সদস্য দফায় দফায় বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে রিপোর্টও। সেখানে বলা হয়েছে করোনা পরিস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ পড়ুয়াদের স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হলে ঝুঁকি থাকছেই। তাই পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করা হবে ওই বিশেষজ্ঞ কমিটির তরফ থেকে।
পাশাপাপাশি কীভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট তৈরি করা যেতে পারে, তাও বর্ণনা করা হয়েছে বলেই খবর। যেহেতু ইতিমধ্যেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রজেক্টের ১০ নম্বর জমা পড়ে গিয়েছে পর্ষদে। নম্বর শ্রেণির রেজাল্টের ভিত্তিতে তৈরি করা যেতে পারে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ফাইনাল মার্কশিট তৈরির পরামর্শ দেওয়া হবে। উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও প্রজেক্ট জমা পড়ে গিয়েছে সংসদে। যেহেতু চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা করোনার জেরে একাদশের পরীক্ষাও দিতে পারেনি, সেই কারণে তাঁদের জন্য হোম অ্যাসাইনমেন্ট অর্থাৎ বাড়ি বসেই যদি আরও কোনও প্রজেক্ট করানো যায়, তার ভিত্তিতে মার্কশিট তৈরি করা যেতে পারে। তবে এটা বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ। মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment