জ্যোতি কুমারীকে মনে আছে ? গত বছর লকডাউনের ‘সাইকেল গার্ল’ জ্যোতি কুমারী ? অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে চাপিয়ে হরিয়ানা থেকে বিহার প্রায় ১২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল এই কিশোরী। এবারে তাঁর পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। গত লকডাউনের সময় ভাইরাল হন জ্যোতি। বাবাকে নিয়ে নিরাপদে গ্রামে ফেরার তাঁর অদম্য জেদের ছবি গত বছর নাড়িয়ে দিয়েছিল কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী। কিন্তু সেই ছবি দেখেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। কোনও কোনও মহল থেকে যৎসামান্য সাহায্য পেলেও, জ্যোতির পরিবার ছিল অন্ধকারের সেই তিমিরেই।
জানা গেছে, সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন তাঁর অসুস্থ বাবা মোহন পাসোয়ান। এই অবস্থায় ছোট ছোট ভাইবোনদের নিয়ে কী করবেন? অথৈ জলে পড়েন জ্যোতি। আশঙ্কায় কাটছিল দিন। জ্যোতির বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় এক যুব কংগ্রেস নেতাকে তাঁদের বাড়িতে পাঠান প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদকের লিখিত শোকবার্তা-সহ জ্যোতির বাড়িতে উপস্থিত হন সেই নেতা। এরপর ফোনে জ্যোতির সঙ্গে কথা বলেন প্রিয়াঙ্কা। সেখানেই জ্যোতিকে তিনি বলেন কোনও চিন্তা না করে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে।
সংবাদমাধ্যমকে জ্যোতি জানান, “প্রিয়াঙ্কা দিদিকে বাড়ির সব কথা বললাম। উনি বললেন কোনও চিন্তা না করতে। উনি সবসময় পাশে আছেন। পরে দেখা করবেন বলেছেন।” একপ্রকার নীরবেই অসহায় পরিবারটির পাশে থাকতে চেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এর আগে একইভাবে দিল্লির নির্ভয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাজীব পুত্র-কন্যার এই উদ্যোগ বরাবরই বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
একদিকে যখন জ্যোতির পড়াশুনার দায়িত্ব নিলেন প্রিয়াঙ্কা, তখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন বিনামূল্যে দেওয়ার দাবিও তুললেন। তাঁর বক্তব্য কেন বারবার বিশ্বের ওষুধের রাজধানীতেই ওষুধের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে? এর দায় কার? ইঞ্জেকশনটির দাম অনেক বেশি। আয়ুস্মান যোজনার অন্তর্ভুক্তও নয়। মোদিজির উচিত দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। বোন প্রিয়াঙ্কার মতো বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধীও। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির টুইটে এদিন উঠে আসে অসমের ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনা। লেখেন, ‘করোনার পাশাপাশি বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা থেকেও ডাক্তারদের বাঁচতে হবে। রক্ষাকর্তাদের বাঁচান।’

No comments:
Post a Comment