রাজ্যে চলছে কার্যত লকডাউন। একটু একটু করে কমছে করোনার প্রকোপ। কিন্তু স্বস্তি আসছে না। চিন্তা বাড়াচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে এই মারণ ছত্রাকের কারণে মৃত্যু হল আরো তিন জনের।
স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট বলছে, বুধবার রাজ্যে নতুন করে ২ জনের শরীরে নিশ্চিত ভাবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মিলেছে। আগে আরো ৫ জনের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ ছিল, এদিন তাঁদেরও নিশ্চিত ভাবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বলা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে মিউকরমাইকোসিসে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৫ জন। পাশাপাশি বুধবার ৬ জন রোগীর শরীরে মিলেছে উপসর্গ। এখন পর্যন্ত রাজ্যে মিউকরমাইকোসিসের উপসর্গযুক্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৩ জন। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে বলি ১১ জন। উপসর্গযুক্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ জন।
কি এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ? মিউকর নামে এক ছত্রাকের প্রভাবে এই রোগ হয়। সাধারণত আর্দ্র স্থানে এটি হয়। ভারতের মতো আর্দ্র দেশে এটি অনেক স্থানেই থাকে। সাধারণত শ্বাসের সময়ে বা শরীরে কাটা অংশের মাধ্যমে এটি দেহে প্রবেশ করে। কিন্তু সাধারণত আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু বর্তমানে করোনা অতিমারীর কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর করোনা আক্রান্তদের সুশ্রষার জন্য স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেই স্টেরয়েড রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। কিছু ওষুধ রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলে। আর ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি পাওয়া সুগার লেভেল হতে পারে মারাত্মক। এর চিকিত্সা সাধারণত বিশেষ ইঞ্জেকশন মারফত ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে হয় সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে, এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

No comments:
Post a Comment