প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক : নিজের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে লিখে দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। গোলপার্কের ফ্ল্যাট নিয়ে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই রীতিমতো বোমা ফাটালেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। ঘোষণা করে দিলেন, নিজের সব সম্পত্তি তিনি লিখে দিয়েছেন বান্ধবীর নামে। তাঁর অবর্তমানে নয়, এখন থেকেই সব সম্পত্তির মালিক বৈশাখীদেবী।
শোভন এবং বৈশাখীর বন্ধুত্ব নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। রাজনীতির আঙিনাতেও বারবার তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কখনও বিরোধীরা তীব্র কটাক্ষ করেছেন তো কখনও আবার শোভনপত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কিন্তু কোনও সমালোচনা কিংবা কটাক্ষকেই গুরুত্ব দেননি শোভন ও বৈশাখী। ভাল-মন্দে সবসময়ই একে অপরের পাশে থেকেছেন। আনন্দ যেমন একসঙ্গে সেলিব্রেট করেছেন, তেমন দুঃসময়েও পরস্পরের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার সকালেই ভারচুয়াল জগতে এক নতুন ইনিংস শুরু করেছেন শোভন-বৈশাখী। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক প্রোফাইলে জুড়ে গিয়েছে বন্ধু শোভনের নামও। শুধু নামই নয়, পালটে গিয়েছে তাঁর প্রোফাইল পিকচারও। ছবিতে হাসি হাসি মুখে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শোভন ও বৈশাখী। ক্যাপশনে লেখা ‘The journey from Me to We begins…’। অর্থাৎ ‘শুধু আমি থেকে আমাদের একসঙ্গে পথচলা শুরু’।
আর এই ‘নতুন পথচলা’ শুরুর দিনই শোভনবাবু বড় ঘোষণা করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে তাঁর সমস্ত সম্পত্তির অধিকারিণী বান্ধবী বৈশাখীই। “শুধু পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নয়, আমার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি লিখে দিয়েছি বৈশাখীকে। আমার অবর্তমানে নয়, এখন থেকেই সবকিছুর অধিকারিণী বৈশাখী।” জানিয়ে দিয়েছেন শোভন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এমন একদিন এই ঘোষণা তিনি করেছেন, যেদিন রত্নার পরিবারের তরফ থেকে তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে ৭ দিনের মধ্যে গোলপার্কের ফ্ল্যাট খালি করার জন্য। রত্নার ভাই শুভাশিস দাসের দাবি, ওই ফ্ল্যাটের আসল মালিক তাঁর দাদা দেবাশিস দাস। শোভনবাবু সেখানে বেআইনিভাবে থাকছেন। শ্যালকের ‘হুমকি’ ভরা নোটিসের প্রেক্ষিতে শোভনবাবুর পালটা, গোলপার্কের ফ্ল্যাটটিতে তিনি বেআইনিভাবে থাকেন না। সেখানে থাকার জন্য যাবতীয় আইনি নথিপত্র তাঁর কাছে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment