রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে বহু নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগদান করেন। নির্বাচনে বিপুল ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তৃণমূল। শাসক দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের পরই দলত্যাগীদের মধ্যে তৃণমূলে ফেরার হুজুগ দেখা যাচ্ছে। সকলেই বলছেন, বিজেপিতে গিয়ে ভুল করেছি। কেউ বা নেত্রীর কাছে ক্ষমাও চাইছেন। কিন্তু তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনাও চলছে। এই জল্পনার মাঝেই আজকের সাংগঠনিক বৈঠকের পর ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললো।।
শাসক শিবিরের যেসব নেতা ভোটের আগে টিকিট বা পদ না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন ফিরতে চাইছেন। এই তালিকায় নাম রয়েছে একাধিক প্রথম সারির নেতা থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীদেরও। এবার এই দলে ফিরতে উদ্যোগীদের নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলছেন, যারা ভুল করেছেন বা যারা অনুতপ্ত তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়া উচিত বলেই আমার মনে হয়।
ফিরহাদ শনিবার বলেন, “এটা দলের ব্যাপার। এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আমাদের সবাইকে মানতে হবে। যারা দলে ফেরার জন্য আবেদন করেছে তাঁদের ক্ষমা ঘেন্না করে দিলে ভাল হয়। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। আজকে গেলাম কালকে ফিরে এলাম, এটা তো দল। এটা তো মন্দির নয়, যে যে ইচ্ছে, যখন ইচ্ছা এসে ঘণ্টা বাজিয়ে যাবে। তবে, আমি বলব, যারা ভুল করেছে, যারা অনুতপ্ত, তাঁদের কিছুদিন সময় দেখে নিশ্চয় একটা সময় ক্ষমা করবেন। তবে, আমি নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বা সিদ্ধান্ত জানাতে পারি না। কারণ আমি দলের অনুগত সৈনিক।"
শনিবারই দলের কার্যত সর্বস্তরের নেতৃত্বকে নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে দলত্যাগীদের ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই তৃণমূল সূত্রের খবর। যে সব দলত্যাগী ইতিমধ্যেই দলে ফেরার আবেদন করেছেন তাঁদের নিয়ে আলোচনা চলছে বলেই জানিয়েছেন তৃণমূলের মহিলা সংগঠনের নব নিযুক্ত সভানেত্রী কাকলী ঘোষ দস্তিদার। এদিন বৈঠক শেষে কাকলী বলেন, “এটা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে। এবং আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে।” তৃণমূল সূত্রের খবর, দলত্যাগীদের ফেরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ব্যক্তি বিশেষে। সার্বিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ভোটে জিতে অবশ্য মমতাও দলবদলুদের নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। এবার দেখার কার কার ভাগ্যের শিকে কতদিন ছেঁড়ে।

No comments:
Post a Comment