বিধানসভা ভোটে মুখ থুবড়ে পড়েছে দিলীপ ঘোষ নেতৃত্বাধীন বঙ্গ বিজেপি। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে রাজ্য কমিটির বৈঠকে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন দু'শোর বেশি আসন পাবেন আর মুকুল রায় বলেছিলেন কোনভাবেই ক্ষমতায় বসার মতো জায়গায় নেই বিজেপি। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল দিলীপ ঘোষেরা ভুল তথ্য দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটিকে।
ভোটের পর তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আশা বহু নেতা প্রকাশ্যে তৃণমূলে ফিরতে চিঠি দিয়ে আবেদন করেছেন । এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার দলের রাজ্য স্তরের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ । আর সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রথম সারির নেতা মুকুল রায়, বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুলের পুত্র শুভ্রাংশু । এই বিরাট অংশের নেতাদের উপস্থিতিতে জল্পনার জন্ম নিয়েছে।
মুকুল রায়, সব্যসাচী দত্ত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভ্রাংশু কেন বিজেপির বৈঠকে নেই তার সদুত্তর অবশ্য কেউ দেয়নি। বিধানসভা ভোটের সময় থেকে কার্যত চুপ ছিলেন মুকুল রায় ।লোকসভা নির্বাচনের মতো সক্রিয় হতে তাকে দেখা যায়নি। তেমনি কেন্দ্রীয় বিজেপিও মুকুলকে লোকসভার মতো বিধানসভায় বিজেপিকে জেতাতে মুকুল কে ব্যবহার করেনি।
ভোটের পর ভোটের পর শপথ নিতে গিয়ে তৃণমূলের সুব্রত বক্সীর সঙ্গে কথা এবং স্ত্রীর অসুস্থতার পর সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া এবং পরবর্তী ঘটনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয় মুকুল কি তাহলে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? পাশাপাশি দলের কোন নেতা মুকুল রায়ের ও তার স্ত্রী অসুস্থ হলে দেখতে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে একটা অস্থির পরিবেশ তৈরি হয় বিজেপির অন্দরে। এরপর দিলীপ ঘোষের বৈঠকে অনুপস্থিতি নতুন করে জন্ম দেয় জল্পনা।
বিজেপি সূত্রের খবর বিজেপির দলীয় নেতাদের সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও মুকুল ঘনিষ্ঠদের দাবি সদ্য কোভিদ থেকে অসুস্থ হওয়া মুকুল রায় ভিড় এড়াতে বৈঠকে যোগ দেননি। আর বিজেপির দাবি মুকুল রায় রাজ্য কমিটির সদস্য নন ফলে তার উপস্থিত থাকার কোথাও নয় । এমনকি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য কমিটির পদাধিকারী নন। যদিও সব্যসাচী রাজ্য কমিটির সদস্য ।
এদিনের বৈঠক শেষে জানা যায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য বিজেপি।ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে 24 হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া 40 জন নিহত এইসব নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানানো হবে এবং 26 শে জুন থেকে আন্দোলনে নামবে বিজেপি বললেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ । আজ রাজ্য কমিটির বৈঠকের পর তিনি এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান । আদালত বলার পরেও পশ্চিমবঙ্গে হিংসায় কোন পরিবর্তন হয়নি এ।ই নিয়ে রাষ্ট্রপতি র কাছে অভিযোগ জানাবে রাজ্য বিজেপি। তিনি বলেন মুখ্য সচিবের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম ।সাড়ে 6 হাজার ঘটনা মুখ্যসচিবকে জানানো হয়েছে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিরোধী-শূন্য রাজনীতি করতে চাইছে শাসকদল এর প্রতিবাদে আন্দোলন।
ত্রান ও ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল কংগ্রেস বলে অভিযোগ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন করোনার এই মহামারীর সময় ভ্যাকসিন নিয়েও কালোবাজারি হচ্ছে । প্রধানমন্ত্রী বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেবেন বলেছিলেন এই বিষয়টি যেন পশ্চিমবঙ্গে যথাযথ ভাবে লাগু হয় এবং সবাই যাতে সেই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পান বলে তিনি রাজ্যকে আবেদন করে।
আঞ্চলিক দলের নেত্রী কি করে সর্বভারতীয় বিরোধী জোট এর নেত্রী হয় সেই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
তৃণমূল কংগ্রেস আগে নিজের ঘর তারপর বিজেপির ঘর ভাঙ্গা হবে কি করে বিজেপির এমএলএ এমপি নিয়ে যায় তা আমরা দেখতে চাই বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ।

No comments:
Post a Comment