প্রেসকার্ড ডেস্ক: ভোট শুরু হওয়ার বহু আগে থেকেই বারংবার প্রশ্নটিই উঠেছে কে হবেন বাংলা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? বিজেপি বারংবার দাবি করেছে এবার ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছিল বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে ?
ভোট চলাকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য ঘিরে ফের প্রশ্নটিই মাথাচাড়া দেয় বিজেপি ক্ষমতায় এলে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী ? অমিত শাহ বলেছেন ভূমিপুত্রই হবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর ভোটের প্রচারে মোদি অমিত শাহ ভূমিপুত্র মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তাঁরা অনেকেই প্রশ্ন তোলেন তাহলে কি শুভেন্দু হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ?
এরপর শুভেন্দু অধিকারী আরেকটি প্রচার জনসভায় গিয়ে বলেন দিলীপ দা আছে আমি আছি। আমরা রাজ্যের উন্নয়ন করবো।যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে পারেনি ।এরপর প্রশ্নটিই মাথাচাড়া দেয় তাহলে কি দিলীপ ঘোষ ই হচ্ছেন বাংলা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ?
এর মাঝে বিজেপির একাধিক নেতার নাম ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর নাম হিসেবে কখনও মিঠুন চক্রবর্তী আবার কখনো স্বপন দাশগুপ্তের নাম । বিজেপি সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে ছয় দফা ভোট হয়েছে তাতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। তৃণমূল ১০০ পার করবে না। বাম কংগ্রেসের জোট ৩০ এর মধ্যেই থাকবে । আবার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন বাম কংগ্রেস জোট ২৫ থেকে ৩০ টা আসন পেতে পারে। বিজেপি ৭০ এর মধ্যে আটকে থাকবে। আর তৃণমূল দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসবে।
যদিও তৃণমূলের রাজ্য ও তাদের নেতৃত্বের অনেকেই মনে করেন এবার শাসন ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি। সর্বশেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন ভোট শেষ হলে ভোটের জন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি তৃণমূল এবার ক্ষমতায় আসছে না । আর সে কারণেই তৃণমূল যদি হারে তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভোটের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তার আন্দোলন পর্ব শুরু করবেন ।
এরইমধ্যে বিজেপি সূত্র থেকে জানা গেছে বিজেপি ইতিমধ্যে কে কোন মন্ত্রী হবেন সেই তালিকা তারা ঠিক করে ফেলেছে। তালিকা অনুযায়ী ছোটো মন্ত্রিসভা প্রথমেই তৈরি করবে বিজেপি । আর সেই মন্ত্রিসভার প্রধান হবেন দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন । ২ রা মে তারিখে ফল ঘোষণার পর ৫ মে তারিখে বাংলায় বিজেপির মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে একটা বৈঠক হবে । সেই বৈঠকে চূড়ান্ত হবে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি রাজ্য নেতাদের কাছে জানতে চাইলে এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি কেউই। যদিও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন দিলীপ ঘোষকে মুখ করে যদি বিজেপি ক্ষমতায় বসার জন্য ভোট লড়াই করতো। তাহলে দিলীপ ঘোষের কিছু মন্তব্যের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে লড়তে শুরু থেকেই পিছিয়ে পড়তে হত। আর সে ক্ষেত্রে যদি নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহ কে সামনের সারিতে এনে ভোটের প্রচার করে তাহলে অনেক ভালো হবে । বিজেপি নেতৃত্বের এই কৌশলে সফল হতে পারেন অমিত মোদীর ব্রিগেড।

No comments:
Post a Comment