পুরাতন মালদা ব্লকের নলদুবি গ্রামের বাসিন্দারা রাস্তাঘাট ও বিজলীর দাবিতে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনও নেতাকে গ্রামে না ঢুকতেও সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে গ্রামের কয়েক শতাধিক মহিলা তাদের হাতে পোস্টার নিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছিলেন। গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি জরাজীর্ণ।
প্রতিটি নির্বাচনে নেতারা গ্রামে এসে পাকা রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু তারা নির্বাচনের পরে উঁকি মারেন না। গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। গ্রামবাসীরা দূষিত জল পান করতে বাধ্য হয়। তবে এবার নেতাদের আড়ালে কেউ আসবেন না। গ্রামে সুযোগ-সুবিধা বিকশিত হওয়ার পরে নেতাদের গ্রামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
বিক্ষোভকারী বাবলা হালধর, নমিতা দাস, মমতা মণ্ডল জানান, এবার গ্রামবাসীরা 'আগে উন্নয়ন, তারপরে ভোট' স্লোগান দিয়েছেন। এত বছর ধরে, যে নেতারা আক্রমণকে বোকা বানিয়েছেন তাদের প্রথমে গ্রামবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তবেই তাদের গ্রামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। গ্রামে যদি উন্নয়নমূলক কাজ হয় তবে কেবল আপনি ভোট দেওয়ার কথা ভাববেন।
জানা যাচ্ছে যে, নলদুবি গ্রামের জনসংখ্যা সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। এখানে ভোটার সংখ্যা ১৬০০। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য রিপন বর্মণ বলেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে। এখানে কেন এমন হচ্ছে না তা বলতে পারি না। বিজেপি নেতা গৌতম দাস বলেছেন, সরকারী বরাদ্দের মাধ্যমে পঞ্চায়েত বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। কিছু কাজের জন্য দরপত্র জারি করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের কারণে কাজ শুরু হতে পারেনি। গ্রামবাসীর ভোট বয়কট করার সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

No comments:
Post a Comment