নিজস্ব প্রতিনিধি: দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী ঘোষণা করার পর বিজেপির ঘরে অশান্তি। মুকুল রাজীবের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। গত রবিবার দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পরেই হাওড়া জেলায় বিক্ষোভ দানা বাঁধে। শুধু প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বললেও ভুল হবে, এদিন প্রার্থীর পাশাপাশি স্লোগানে মুকুল রায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠে, কেন তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের প্রার্থী করা হচ্ছে। কেন পুরানো বিজেপি নেতাদের প্রার্থী করা হয়নি তা নিয়ে বিজেপি নির্বাচনী কার্যালয় হেস্টিংসে কর্মীরা আসে এবং সেখানে তারা জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখায়।
সদ্য তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠকে আর উদয়নারায়নপুর প্রার্থী করা হয়েছে নব্য বিজেপি সুমিত রঞ্জন কাড়াকে। বিজেপি নেতা কর্মীরা এই দুই কেন্দ্রে যথাক্রমে রঞ্জন পাল অভিকে প্রার্থী করার দাবী তোলে। তাদের দাবী এতদিন যাদের কাছে মার খেয়েছি এখন তাদের হয়ে ভোটের প্রচার করতে হবে কেন।
হেস্টিংস অফিসের সামনে জমায়েত করে তারা মুকুল রায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান, যা সামলাতে কার্যত বিপাকে পড়েন কলকাতা পুলিশ। অফিসে ঢোকার মুখে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় শুধু পাঁচলা উদয়নারায়নপুর নয় রায়দিঘি উত্তরপাড়ার বিক্ষোভের সামিল হয়ে কর্মীরা উত্তরপাড়ার বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি নেত্রী কৃষ্ণ ভট্টাচার্য।
বিজেপি কর্মীদের এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ পৌঁছায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সিনিয়র নেতা অমিত শাহের কানে আর সে কারণেই বাঁকুড়া রানিবাঁধ এর সভা করে উড়ে যাওয়া আসাম থেকে কলকাতা ফেরেন এবং গৌহাটি থেকে ঠিক করেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন আর সেই বৈঠকে আসতে বলা হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে। রাজারহাটে ওই বৈঠক হওয়ার কথা এবং অমিত শাহ ফিরে এসে সেই বৈঠকে যোগ দেন।
আগামী ২৭শে মার্চ রাজ্য প্রথম দফার নির্বাচন। প্রথম দফায় মূলত জঙ্গলমহলকে পাখির চোখ করছে বিজেপি নেতৃত্ব। লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলের মানুষের সমর্থন পেয়েছিল বিজেপি। এই সমর্থনকে ধরে রাখতে কি কি রণকৌশল নেওয়া হবে এবং আর যাতে টিকিটকে কেন্দ্র করেে, প্রার্থীকে কেন্দ্র করে কোনো রকম ক্ষোভ-বিক্ষোভ না হয় সেই রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। রাজ্য বিজেপি প্রায় সমস্ত শীর্ষ নেতাই এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা। পাশাপাশি বিজেপির মধ্যে যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমস্যা কি করে মিটানো যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সর্বাত্মকভাবে কাজে লাগানো যায়। তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে । জঙ্গলমহলে দলের মধ্যেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে । এদিন ঝাড়গ্রামের ভার্চুয়াল সভায় বক্তৃতা এবং আদিবাসী মানুষের মন জয় করে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এদিন যেতে না পারলেও প্রচারে ঝাড়গ্রাম আসবে। বাংলাই যে তাদের পাখির চোখ গৌহাটি থেকে কলকাতা ফিরে বুঝিয়ে দিলেন শাহ।

No comments:
Post a Comment