নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: কোন্নগরে রাজরাজেশ্বরী সেবা মঠে দোল উৎসব উপলক্ষে পুণ্যার্থীরা আসতে শুরু করেছে। প্রথমদিন দোল এবং দ্বিতীয় দিন হোলি। হোলিতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুণ্যার্থীর সংখ্যা আরো বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২ দিন ধরে রাধা ও কৃষ্ণ ঠাকুর কে ভোগ দেওয়া হয়। মন্দির খোলা থাকে সারা রাত।
সেবা মঠের প্রধান পুরোহিত ব্রহ্মচারী সচ্চি স্বরূপ এবং সঞ্জু ত্রিবেদী বলেন প্রতিবছর দোলের দুই দিন কয়েক শত ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে। দোলের দুদিন রাধা ও কৃষ্ণ ঠাকুর কে ভোগ নিবেদন করা হয়। পূজাতে নিবেদন করা হয় দুধ, দই, মাখন পায়েস, চাটনি, পোলাও, মধু,ফল বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, খিচুড়ি, ৫ রকমের ভাজা, চিনি, গঙ্গাজল। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ভোরে মন্দিরে মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মন্ত্র এবং স্ত্রোত পাঠের মাধ্যমে বিশেষ পূজা পাঠ হয়। মঠে রাধারানীর এই দোলযাত্রা দেখতে ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে। রাজরাজেশ্বরী মঠের সামনে শুরু হয় আবির খেলা। সারাদিন ধরে চলে পূজা পাঠ, হোম, যজ্ঞ হোলির আগের দিন চাঁচর হয়। সেখানে ন্যাড়াপোড়া করে অশুভশক্তির নাশ করা হয়।
মন্দিরে আরও অনেক বিগ্রহ রয়েছে। হোলির দিন সেগুলোরও পূজা হয়। মন্দিরে ৬৪টি যোগিনীর পূজা হয়। সকালে শোভাযাত্রা বের হয় এতে কয়েক শত ভক্ত সামিল হন।শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ছিল ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা। এই বিষয়ে রাজরাজেশ্বরী সেবা মঠের পক্ষ থেকে সঞ্জু ত্রিবেদী জানান, দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আমরা দুই দিন ধরে উৎসবের মাধ্যমে পালন করব। মঙ্গল আরতি দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
মঠের সাধুরা কীর্তন করেছেন। সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান হয়েছে। ভক্তরা সকাল থেকে মঠে প্রবেশ করছেন। তবে ভক্তদের করোনা বিধি মেনে প্রবেশ করতে হচ্ছে।হোলি উপলক্ষে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাসামগ্রী ও দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করা হয়। করোনা বিধি পালন করার কথা জানান সঞ্জু ত্রিবেদী। হোলি এই বিষয়ে রাজরাজেশ্বরী সেবা মঠ এ আগত এক পূর্ণার্থী জানান প্রতি বছরই বাবা ও মায়ের সঙ্গে আসি। এই বছরও সেবা মঠে এসে পূজা পাঠ দেখলাম মনটা শান্তিতে ভরে গেল।

No comments:
Post a Comment