নিজস্ব প্রতিবেদন: বেতন কাঠামো চালু-সহ একাধিক দাবী তুলে শুক্রবার নবান্ন অভিযানের ডাক দেয় পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। আর সেই অভিযান ঘিরেই কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার। পুলিশের বিরুদ্ধে উঠল লাঠিচার্জের অভিযোগ। আহত হয়ে বেশ কয়েক পার্শ্বশিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা যায়, এদিন দুপুর ১২টায় পার্শ্ব শিক্ষকদের নবান্ন অভিযানের কথা ছিল। কিন্তু মিছিলের শুরুতেই পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে তারা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে বসে পড়েন ধর্না অবস্থানে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় দুপুর দেড়টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তাঁদের দেখা করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও কোনও আশার আলো দেখতে পান না পার্শ্ব শিক্ষকেরা। এরপরেই দুপুর আড়াইটে নাগাদ যখন পার্শ্বশিক্ষকরা পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে বিধানসভার দিকে এগোতে চান, তখনই সূচনা হয় গণ্ডগোলের। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। শিক্ষক-শিক্ষিকার ভেদাভেদ না দেখেই পুলিশ লাঠি চার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি ছেলে পুলিশই পার্শ্ব শিক্ষিকাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ ওঠে। তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। আরও এক শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার আবেদন জানালেও পুলিশ তাতে কর্ণপাত করে না বলেই অভিযোগ।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ নির্মমভাবে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে। বুকে মারে।” বেশ কয়েকজন অসুস্থও হয়ে পড়েন। অসুস্থ এক পার্শ্ব শিক্ষক বলেন, “আমরা ন্যায্য দাবীতেই এই কর্মসূচি ডেকেছিলাম। আমরা ছেলে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতে পারি না। মা-বাবার চিকিৎসা করাতে পারি না। অথচ মুখ্যমন্ত্রী আমাদের দাবী দাওয়া নিয়ে কোনও সহানুভূতিই দেখান না। উল্টে রাজ্যের পুলিশ আমাদের উপর এভাবে লাঠি চালাল।” আন্দোলনকারীদের আরও একজন জানান, "আমরা তো অন্যায় কিছু চাইনি। আমরা ন্যায়সঙ্গত ভাবেই আন্দোলন করছি। এত কম বেতনে আমরা কি অনাহারে মারা যাব? ওনার(মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে একটু দেখা করতে চেয়েছিলাম উনি সেটাও শুনলেন না!" এদিন শতাধিক পার্শ্ব শিক্ষকদের আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং আটকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানিয়েছেন পার্শ্বশিক্ষকেরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য়, এদিন নবান্ন অভিযানের আগে ৫০ দিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে ধর্না অবস্থান করছে পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করেই তারা এই অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। তারপরেও সরকার পক্ষ থেকে মেলেনি কোনও সদুত্তর।

No comments:
Post a Comment