নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: একুশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদলের হিড়িক যেন কিছুতেই থামতে চাইছে না। কখনও রাজ্য স্তরের নেতৃত্বরা দলবদল করছেন, আবার কখনও নিচুস্তরের কর্মীরাও দলবদল করছেন। আর এই দলবদলের টানাপোড়েনে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি । শুক্রবার বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়র থানার বালসি দু'নম্বর অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ২০০ জন কর্মী সমর্থক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। এদের মধ্যে অন্যতম প্রাক্তন প্রধান বুদ্ধদেব পাল। তিনি বালসি দু'নম্বর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। যোগদানকারীদের হাতে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন রাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শ্যামল সাঁতরা। দলবদলের অনুষ্ঠানে শ্যামল সাঁতরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন , পাত্রসায়ের ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সিংহ, পাত্রসায়ের ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দিলীপ ব্যানার্জি সহ অন্যান্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
শ্যামল সাঁতরা বলেন, 'বিজেপি একটি সন্ত্রাসবাদি পার্টি। এদের কোনও নির্দিষ্ট আদর্শ বলে কিছু নেই । বিজেপির কাজে অতিষ্ঠ হয়ে বুদ্ধদেব পালের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা আজ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন ।
বুদ্ধদেব পাল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান , সৌমিত্র খাঁর কথায় আমি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করি কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম বিজেপিতে সাধারণ মানুষের কোন ঠাঁই নেই, এরা শুধু দাঙ্গা লাগাতে চায়। তাই শ্যামল সাঁতরার হাত ধরে আজ পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলাম।
তবে বিজেপির কোন কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেনি বলে দাবী স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের । বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের সভাপতি বাপি হাজরা বলেন, 'দুশো লোক আজকের সভাতেই ছিল না, আর যারা যোগ দিয়েছে তারা কেউই বিজেপির লোক নয় । বুদ্ধদেব পাল কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন ওর মতো চিটিংবাজ লোক বিজেপিতে টিকতে পারবে না। বিজেপিতে দুর্নীতি করতে পারছিল না তাই আবারও তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছে। এটা বিজেপির পক্ষে ভালো হয়েছে।'
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বদের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে সৌমিত্র খাঁর নির্দেশে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন । তৃণমূল কংগ্রেসের দাবী, বুদ্ধদেব বাবু বিজেপির যুব মোর্চার জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন । স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই যোগদান বিজেপির কাছে জোর ধাক্কা। অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কর্মীরা কিছুটা হলেও বাড়তি অক্সিজেন পাবে এই যোগদানে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তবে এই যোগদান ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার হারানো জমি কতটা মজবুত হবে, তা সময়ই বলবে ।

No comments:
Post a Comment