শাসকদল নয়, পদ্ম শিবিরেই ভোট; আদিবাসী ও তপশিলী জাতি উন্নয়ন সংস্থার জেলা সভাপতির ঘোষণায় তোলপাড় - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 4 February 2021

শাসকদল নয়, পদ্ম শিবিরেই ভোট; আদিবাসী ও তপশিলী জাতি উন্নয়ন সংস্থার জেলা সভাপতির ঘোষণায় তোলপাড়


নিজস্ব সংবাদদাতা, উওর ২৪ পরগনাঅবশেষে ভাঙল ধৈর্যের বাঁধ। শাসকদল থেকে মুখ ফিরিয়ে পদ্ম শিবিরের দিকেই ঝুঁকল আদিবাসী ও তপশিলী জাতি সমাজ। শুধু তাইই নয়, প্রকাশ্যে শাসকদলকে ভোট না দিয়ে পদ্ম শিবিরে ভোট দেওয়ার ঘোষণাই করে বসলেন ভারতীয় আদিবাসী ও তপশিলী জাতি উন্নয়ন সংস্থার জেলা সভাপতি সুকুমার সর্দার, যা ঘিরে ব্যাপক শোরগোল জেলা রাজনীতিতে।



আদিবাসী ও তপশিলী জাতির অনুন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে এই সংগঠন। বেশ কয়েকবার আদিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তরে আন্দোলনও করেছেন এখানকার সদস্যরা।এমনকি, বিভিন্ন দাবীতে স্মারকলিপি জমা দিয়ে জেলা তপশিলী, আদিবাসী এবং অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন দপ্তরের দৃষ্টিও আকর্ষণ করা হয়েছিল। প্রতিবারই মিলেছিল  প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তারপরও আদিবাসী ও তপশিলী জাতির উন্নয়ন হয়নি বলেই অভিযোগ। এরপরই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে এই সমাজের মানুষজনের। আদিবাসী ও তপশিলী জাতির বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার ফের পথে নামেন সংগঠনের কর্মীরা। এদিন দুপুরে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে প্রথমে সভা সংগঠিত হয় বারাসতে জেলাশাসকের দপ্তরের পাশে। এরপর চিরাচরিত তীর, ধনুক, বল্লম হাতে নিয়ে আদিবাসী সমাজের মানুষজন অভিযানে যায় জেলাশাসকের দপ্তর। কিন্তু দপ্তরের দু'দিকের গেটে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। বাধা পেয়ে দ্বিতীয় গেটের সামনে তীর-ধনুক হাতে নিয়ে বিক্ষোভ  শুরু করেন আদিবাসী সমাজের মানুষজন। প্রায় ঘন্টা খানেক চলে এই বিক্ষোভ। এরই মধ্যে সংগঠনের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দাবীদাওয়া নিয়ে জেলা আদিবাসী, তপশিলী ও অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেয়। সেই সময় দপ্তরের জেলা আধিকারিক তানিয়া পারভীনের সঙ্গে একপ্রস্থ বচসাও শুরু হয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের। যদিও দপ্তরে পুলিশ থাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


এদিকে, স্মারকলিপি জমা দিয়ে বাইরে এসেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন ভারতীয়  আদিবাসী ও তপশিলী জাতি উন্নয়ন সংস্থার জেলা সভাপতি সুকুমার সরদার। তিনি বলেন, "ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী ও তপশিলী জাতির উন্নয়নে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত ১০ বছরে কোনও উন্নয়ন হয়নি আদিবাসী ও তপশিলী সমাজের।মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও ভাঁওতাবাজির সরকার চলছে। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে আদিবাসী সমাজ আরও পিছিয়ে পড়বে।তাই,এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বদ্ধপরিকর আদিবাসী ও তপশিলী সমাজের মানুষজন।এবার এই সমাজের একটি ভোটও তৃনমূল পাবে না। পরিবর্তে ভোট দেওয়া হবে বিজেপিকে।" 


সুকুমার বাবু আরও বলেন, "যদি ১০ বছরে উন্নয়ন হয়েই থাকে তাহলে দুয়ারে সরকার করতে হবে কেন?কেনই বা এই কর্মসূচি হাতে নিয়ে ভোট চেতে হবে শাসকদলকে? উন্নয়ন হলে তো সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই ভোট দেবেন। আসলে উন্নয়ন হয়েছে খাতায় কলমে। বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন ঘটেনি।"


আর এই ঘোষণায় বিজেপি শিবির উল্লসিত হলেও ভোটের মুখে শাসকদলের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে তা নিঃসন্দেহে বলাই যায়। 


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad