শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: কৃষি আইন প্রত্যাহার ও বাতিলের দাবীতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়িতে সুবিশাল মিছিল ও সভা করলো তৃনমূল। বৃহস্পতিবার বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার পাল্টা মিছিল ও সভার পরিনত হল এদিনের মিছিল ও সভা।
এদিনের এই মিছিল কয়েক হাজার কর্মীকে নিয়ে কেশিয়াড়ী হাইস্কুলের মাঠ থেকে শুরু বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায় এবং সভা সংগঠিত হয়। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভানেত্রী জয়া দত্ত, জেলা তৃনমূলের সভাপতি অজিত মাইতি, জেলা আই এন টি টি ইউ সির সভাপতি নির্মল ঘোষ, কেশিয়াড়ীর বিধায়ক পরেশ মুর্মু, যুবর রাজ্য সম্পাদিকা কল্পনা শীঠ, ব্লক সভাপতি অশোক রাউৎ, সহ সভাপতি পবিত্র শীঠ, ফটিকরঞ্জন পাহাড়ী, মামনি মান্ডী সহ অনেকেই।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় তিনি বাংলায় গুজরাট বনাম বাংলার লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, "গুজরাট ছাড়া আর কেউ এখানে আসছে না।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ নিয়েও প্রশংসা করেছেন। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দাবী, দশ বছরে যা করেছেন কোনও মুখ্যমন্ত্রী করেনি। বিজেপি নেতাদের বহিরাগত কটাক্ষ করে তাদের বাংলায় ঢুকে অশান্তি পাকানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি বলেন, "কিছু মানুষ দিল্লি হয়ে পশ্চিমবাংলায় ঢুকছে। বাংলাকে অশান্ত করতে।"
কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথ ও জয় শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে। মন্ত্রীর কটাক্ষ, "রথে তো ঠাকুর দেবতা যায়। রথে আবার কবে নাড্ডা যায়। নাড্ডা কী ঠাকুর হয়ে গেল ? কোনও দিন দেখেছেন এই ধরনের নাটক।" তিনি আরও বলেন, বাংলায় অনেক কাজ হয়েছে। ২০২১ বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় এলে প্রথম লক্ষ্য হল রাজ্যে কারখানা ও বেকারদের চাকরি করা।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মনের কথা' বলে যান সুব্রত। তিনি বলেন,"এই পথ যদি নতুন করে খুলতে চান তাহলে উদারভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আশীর্বাদ করুন। নিজে তৃণমূলকে সমর্থন করুন। আর পাশের লোককে সমর্থন করতে বলুন। এই কর্তব্যই হবে আপনার জাতীয় কর্তব্য।" বিজেপির সঙ্গে মানুষ নেই বলে কেশিয়াড়িতে বৃহস্পতিবার করে যাওয়া সভায় লোক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন নেতৃত্বরা।
বৃহস্পতিবারের সভায় ছিলেন বিজেপির রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে 'বেইমান' বলে আখ্যা দেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। নাম না করে তিনি বলেন," একটা বেইমান এসে রথে চড়েছিল তাই লোক হল না। এর জন্য দুঃখ হয়।" এদিনের সভায় কেশিয়াড়ির বিবাদমান সব নেতৃত্বকে এক মঞ্চে দেখা যায়।

No comments:
Post a Comment