নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর: ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি এখনও, ভোটে এখনও বাকি দু মাস কি তিন মাস। তাতে কি! দেওয়াল দখল করে প্রচার সারতে ব্যস্ত সব রাজনৈতিক দল। আর সেই বিজেপির দেওয়াল লিখনকে কালি দিয়ে লেপে দেওয়াকে ঘিরে উত্তাপ ছড়ালো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তদন্তে নামে বালুরঘাট থানার পুলিশ। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে বিজেপির যুব মোর্চার তরফে তোলা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির তরফে তৃণমুলের বিরুদ্ধে সাংষ্কৃতিক শহরে অপসংষ্কৃতি আমদানীর পাশাপাশি বাক স্বাধীনতা হরন করবার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার সাত সকালে বালুরঘাট শহরের সাত নম্বর ও এগারো নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দেখতে পায় গত রবিবার তাদের এলাকার বিভিন্ন বাড়ী ও সীমানার প্রাচিরের দেওয়াল গুলোতে বিজেপি দলের তরফে আসন্ন বিধানসভা ভোট উপলক্ষ্যে তৃণমূলকে হুশিয়ারি দিয়ে বাংলা ছাড়া করবার যে দেওয়াল লিখন গুলো করা হয়েছিল, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা সেই সব লিখনের মধ্যে "তৃণমূল" লেখাটিকে অক্ষত রেখে কালি দিয়ে " বাংলা ছাড়ো " লেখা সহ বাদবাকি লেখা কেটে দেওয়া হয়েছে। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাত সকালে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ছুটে আসে জেলা বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি অভিষেক সেন গুপ্ত সহ অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা। ছুটে আসে পুলিশও।
ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার আগেই দেওয়াল তরজায় মেতেছে তৃণমূল ও বিজেপি দুই রাজনৈতিক দল। সারাদিন এপাড়া থেকে সেপাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছেন দলের কর্মীরা। দেওয়াল ফাঁকা পেলেই লাগানো হচ্ছে দলের সমর্থনে দেওয়াল দখলের সংকেত। কোথাও লেখা আছে বিজেপি ২০২১-২২, তো কোথাও বা তৃণমূল ২০২১-২২।আর এই দেওয়াল লিখন কে ঘিরেই বালুরঘাটে আগাম ভোটের উত্তাপ ছড়ালো।
বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি অভিষেক সেন গুপ্তর অভিযোগ রাতের অন্ধকারে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা এই কাজ করেছে। তার আরও অভিযোগ এই শহর সংষ্কৃতির শহর এখানে তৃণমূল অপষ্কৃতির আমদানি করছে। বাক স্বাধীনতা সবার আছে। সেখানে এভাবে শাসক দল তাদের এবারের ভোটে আটকে রাখতে কখনই পারবে না। মানুষ তাদের এবার ভোটের বাক্সে জবাব দেবে।
অপরদিকে জেলা যুব তৃনমুলের সাধারন সম্পাদক মহেশ পারাখ তাদের দলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তৃণমুল এসব করেনা। তাদের নেত্রী উন্নয়নের কথা বলে তাই তৃনমুলকে মানুষ ফের ক্ষমতায় আনবে।তার আরও অভিযোগ বিজেপি দলটি না মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারছে না কোন উন্নয়নের কথা বলছে। এগুলো বিজেপির গোষ্টীদ্বন্দ্বের জের। তাই বিজেপি মিডিয়াতে এসব মিথ্যে অভিযোগ করে ভোটের আগে ফয়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এখন দেখার ভোট এগিয়ে আসতে আসতে আরও কতকি জেলাবাসীর দেখার রয়েছে।

No comments:
Post a Comment