মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও যুবক - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 13 February 2021

মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও যুবক


শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও যুবক! সবং জুড়ে মাদকের রমরমা কারবারের অভিযোগ বাসিন্দারা। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত তেমাথানি বাজারের। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মাদকাসক্তর বাড়িীতে মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়লো এক যুবক।



পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক পাচারকারী ওই যুবকের নাম সৌভিক দাস। বাড়ী নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর এলাকায়। তিনি দীর্ঘ প্রায় তিনবছর ধরে তেমাথানিরই বাজার সংলগ্ন এলাকায় সপরিবারে বাড়ী ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। পেশায় একটি বেসরকারি মোবাইল পরিষেবা কোম্পানির এক উচ্চ পদস্থ কর্মচারী তিনি। এলাকায় সম্ভ্রান্ত পরিবারের পরিচয়ে থাকা ওই যুবক যে মাদক সরবরাহকারী তা রীতিমত বিশ্বাসই করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।



জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সৌভিক এলাকারই এক মাদকাসক্তর বাড়িতে গিয়ে চুপিসারে একটি মাদক ভর্তি কৌটো নিয়ে ব্যক্তির হাতে দেওয়ার সময় বাড়ীর মহিলাদের নজরে আসে বিষয়টি। তাঁদের সন্দেহ হওয়ায় কৌটোর মধ্যে কি আছে ইত্যাদি বিষয়ে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। প্রশ্ন শুনেই ঘাবড়ে হাতের কৌটো আড়াল করার চেষ্টা করে কিন্তু ততক্ষণে পরিবারের লোকেরা ঘিরে ফেলে অভিযুক্ত ওই যুবককে। কৌটো থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু অদ্ভুদ ধরনের পুরিয়া। এরপরই তাঁকে সবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে ওই মাদক ব্রাউন সুগার বলেই জানা যাচ্ছে। 



স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেমাথানি বাজারের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ তিনি। পরিবারের সন্দেহ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সেবনের ফলেই তাঁর এই দশা। পরিবার জানত যে তিনি মাদকাসক্ত ছিল, কিন্তু বাড়ী থেকে বেরোতে না পারা ব্যক্তি কিভাবে মাদক হাতে পাচ্ছে তা নিয়ে নাজেহাল ছিল পরিবার। ধারণা ছিল কেউ ছেলেকে মাদক সরবরাহ করছে কিন্তু কে সরবরাহ করছে এটা খুঁজে পাচ্ছিলেননা তাঁরা। অবশেষে হাতেনাতে ধরা পড়লো।



গোটা ঘটনায় রীতিমত ধন্দে পুলিশ, কারন প্রাথমিক তদন্তে তাঁরা জানতে পেরেছেন তেমাথানির বহু এলাকায় ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে পড়েছে এই মারণ নেশা। রাতভর জেরা করে অভিযুক্তর কাছ থেকে পুরো র‍্যাকেটের খোঁজ পেতে চাইছে পুলিশ।



ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সবং থানার পুলিশ এবং গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের। তাঁরাই এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী তদন্ত শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন সবং থানার পুলিশ। সবংয়ে তেমাথানির মতো জনবহুল বাজারে এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad