নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: এবারে বিরোধী দলের কর্মীদের ছবি করে দেওয়ার হুমকির সুর শোনা গেল সিপিআইএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের গলায়। শুক্রবার বিকালে ডেবরা থানার গোলগ্ৰামে দলের এক সমাবেশে সেলিম এই হুমকি দিলেন।
ভাষণ দিতে গিয়ে রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, "এখন লড়াই শুরু হয়েছে। বুঝে নিন আমরা সবে খেলতে নেমেছি। তৃণমূল ভেবেছিল বিরোধীদের সাফ করে একা ফাঁকা মাঠে গোল দেবে। কিন্তু সেটা হবে না। তৃণমূল গোল দিতে পারবে না। নতুন করে গন্ডগোল করলে বুথে গিয়ে ঝামেলা করলে নিজেদের ছবিগুলি বড় করে মালা দিয়ে বাড়ীতে টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে।" এই প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন "মমতা, শুভেন্দু, মোদীর ছবি টাঙ্গিয়ে রেখে লাভ নেই বরং নিজের নিজের ছবি তুলে বাড়ীতে বাঁধিয়ে রাখো। কারন বুথে গিয়ে ঝামেলা করলে নিজেদের ছবিগুলি বড় করে মালা দিয়ে টাঙ্গিয়ে রাখা যায়।"
এছাড়াও তিনি এদিন বলেন, রাজ্যে তোলাবাজির সরকার আর দিল্লীতে বাতেলা বাজির সরকার চলছে। ভোট আসছে বলে এরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তারসাথে এইদিন রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়া বাজেট পেশের সমালোচনা করেন তিনি। রাজ্যের অর্থমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাজেট পেশের ঘটনাকে স্বৈরাচারী কায়দা বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি এইদিন সমাবেশে রাজ্যে বাম কংগ্রেস জোট সরকার গড়লে কি কি কাজ অগ্ৰাধিকারের ভিত্তিতে করা হবে তার একটি বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এই রাজ্যের ছেলেমেয়েদের কাজের খোঁজে যাতে বাইরে চলে যেতে না হয় তারজন্য এখানে কাজ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কলকারখানা তৈরি সহ কর্মসংস্থানের সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, এই রাজ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। বেসরকারি হাসপাতালে পয়সা খরচ করে চিকিৎসা করাতে যেতে হচ্ছে। আর শুধু স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে। বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এইদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম নেতা তাপস সিনহা, প্রাণকৃষ্ণ মন্ডল প্রমুখ। সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতন। এছাড়াও এদিন জনসভার আগে "ফেরাতে হাল,ফিরুক লাল" এই বার্তা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বেশ কিছু নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে বাম নেতা মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্ব পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের করন্ডা থেকে গোলগ্রাম পর্যন্ত মহামিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

No comments:
Post a Comment