শান্তনু পান, ঝাড়গ্রাম: ভোট বড় বালাই! ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম শহরের সুভাষ পল্লীতে বাবার ছবি হাতে নিয়ে ছেলেকে প্রচার করতে দেখা গেল। ঝাড়গ্রাম জেলায় এক বিরল রাজনৈতিক প্রচার- বাবার ছবি বুকে নিয়ে রাজনীতিতে নামলেন ঝাড়গ্রামের প্রয়াত বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাসদাঁর ছেলে সুরজিৎ হাঁসদা।
বৃহস্পতিবার সকালে ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কো অর্ডিনেটার অজিত মাহাত ও তৃণমূলের যুব সংগঠনকে পাশে নিয়ে ঝাড়গ্রাম শহরের সুভাষপল্লী, আকাশবানি এলাকায় প্রায়ত বিধায়কের পাশে থাকার জন্য বাড়ী বাড়ী গিয়ে সাধারণ মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানানোর মধ্যে দিয়ে জনসংযোগ করলেন সুরজিৎ। সুরজিৎ এর কথায় , দাদু (সুবোধ হাসদাঁ, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন) ও বাবার (সুকুমার হাসদাঁ) দেখানো পথেই চলতে চায় সুরজিৎ!
দোরগোড়ায় রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন প্রয়াত ডাক্তার সুকুমার হাসদাঁ। ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে তৃণমূল বিধানসভার প্রার্থী হোন। প্রতিদ্বন্দ্বী বাম, কংগ্রেসের পাশাপাশি ছত্রধর মাহাতও ছিলেন। মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে বিশাল অংকের ভোটে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা আসনে জয়ী হয় সুকুমার হাঁসদা। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রীও হোন তিনি। ২০১৬ বিধানসভার নির্বাচনে পুণরায় ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে জয়ী হোন তিনি। তবে দ্বিতীয়বারের জন্য বিধায়ক হলেও মন্ত্রীত্ব পাননি তিনি। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান হোন তিনি, তার ঠিক কিছু দিনের মধ্যে রাজ্য বিধানসভার ডিপুটি স্পিকারের পদে নিযুক্ত হোন।
গত বছর ২৯ শে অক্টোবর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই ঝাড়গ্রাম বিধানসভার আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য জেলার তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে রেষারেষি শুরু হয়ে যায়। তৃণমূলের এক সূত্রের খবর, ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য এই মুহূর্তে নাম উঠে এসেছে নয়াগ্রামের বাসিন্দা ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের কো অর্ডিনেটার উজ্জ্বল দত্ত, ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা আরও এক কো অর্ডিনেটার অজিত মাহাত, ঝাড়গ্রাম পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দুর্গেশ মল্লদেব বা তাঁর ছেলে বিক্রমাদিত্য মল্লদেব ছাড়াও তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা।
তৃণমূলের অপর একটি সূত্রের খবর সুরজিৎ ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে, অন্যদিকে সুকুমারবাবুর মেয়ে ডাক্তার। এই অবস্থায় হঠাৎ করে সুরজিতের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সক্রিয় রাজনীতিতে আশায় জল্পনা শুরু হয়েছে তুঙ্গে।
তবে কি আদিবাসী সমাজের কাছে সুকুমার হাঁসদার আবেগকে কাজে লাগিয়ে ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় প্রার্থী হতে চলেছে সুকুমার বাবুর ইঞ্জিনিয়ার ছেলে সুরজিৎ হাঁসদা। সুরজিৎ বলেন, দাদু ও বাবা সমাজের জন্য অনেক কাজ করেছেন। আমিও তাঁদের দেখানো পথেই হাঁটতে চায়। সুরজিৎ বাবু আরো বলেন দাদু ও বাবার অসম্পূর্ণ কিছু কাজ থেকে গেছে, তা আমি সম্পূর্ণ করে যেতে চাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে।বাবাকে তাঁদের প্রিয় বিধায়ক হিসেবে দশ বছর ধরে আশির্বাদ করার জন্য আমি আজ সাধারণ মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ।
ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের কো অর্ডিনেটার অজিত মাহাত বলেন, আমাদের সরকারের দশ বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি । সাথে সুকুমার বাবুর ছেলে সুরজিৎ রয়েছে ।

No comments:
Post a Comment