নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর: যেখানে দিলীপ ঘোষ, সেখানে চা-চক্র হবে না এটা কখনও হয় নাকি! তারমধ্যে শুক্রবার যেখানে রাজ্যে নির্বাচন ঘোষনা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই এদিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বালুরঘাটে জনসভার জন্য ও পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নিতে আগমনের জন্য নির্ধারিত চা-চক্রের কোন কর্মসূচী না থাকলেও, দিলীপ ঘোষ তো দীলিপ ঘোষ। তাই রোজকার মত প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে পড়ে সেই চায়ের দোকানে চা-পান করে জনসংযোগ করে ওঠা বালুরঘাটে শহরে শনিবারও বজায় থাকল ।
বালুরঘাট শহরের থানা মোড়ে একটি চায়ের দোকানে এদিন তার প্রাতঃভ্রমনে বেড়িয়ে চা-চক্র। সেই চা-চক্রে বসে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দীলিপ ঘোষ সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তার নির্ধারিত এই চা-চক্রের কর্মসূচী না থাকা সত্বেও বলেন, এটা তার প্রাত্যহিক অভ্যেস। তিনি যখন রোজকার মত বেরিয়েছিলেন তখন তার সাথে গুটি কয়েক লোক ছিলেন। আর এখন দেখুন, আসলে ভোট ঘোষনা হয়ে গেছে মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে একটু সচেতনতা বেড়েছে তাই ভোটের লোকদের প্রতি মানুষদের আগ্রহ বাড়ছে। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয় রাজ্যের শাসক দল যখন অভিযোগ করে বলছে বিজেপিকে সুবিধে করে দিতেই এই রাজ্যে আট দফা ভোট করাচ্ছে নির্বাচন কমিশন- এর উত্তরে দীলিপ ঘোষ জানান, সুবিধে ভোটের দফা নিয়ে হয় না বরং অসুবিধে কম হবে। তার দাবী বিজেপি দল বার বার সুরক্ষার জন্য দাবী করেছিল বেশি দফায় ভোট করবার, যাতে মানুষ নির্ভয়ে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে ভোট দিতে যায়। তাছাড়াও গত লোকসভা ও পঞ্চায়েতের হিংসার কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হয়তো। রাজ্য বিজেপির সভাপতির আরও বলেন, রাজ্যে বিজেপি এলে বাংলার এই সুনাম ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একদফা নির্বাচন করার চেষ্টা চালাবে। তিনি বলেন, বিজেপি যদি কাশ্মীরে ও বিহারে নির্বিঘ্নে ভোট করাতে পারে তবে বাংলায় ক্ষমতা এলে কেন একদফায় ভোট করাতে পারবে না। তার অভিযোগ, এই রাজ্যের পুলিশ শাসক দলের নেতাদের বাড়ী বাড়ী পাহারা দেয়। থানায় গেলে পুলিশ পাওয়া যায় না। এই জিনিষ বন্ধ করতে হবে। গতকাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জনসভায় দাঁড়িয়ে বাংলাতে বিজেপি এলে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন, সে প্রসঙ্গ টেনে দীলিপ বাবু জানান, এই অসুরক্ষিত ভয়ের পরিবেশ থেকে বাংলাকে মুক্ত করে সুশাসন ফিরিয়ে নিয়ে আসার কাজ বিজেপি করবে।
আজকের এই রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের অঘোষিত চা-চক্রে দলের বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ অনান্য জেলার বিজেপির নেতৃবৃন্দ যোগ দেন। পাশাপাশি দীলিপ বাবুকে দেখে বেশ কয়েকজন সাধারন মানুষকে এগিয়ে এসে কথা বলতে দেখা যায়। যা পরে ছোটখাট দীলিপ ঘোষের জনসংযোগের কর্মসূচীতে পরিনত হয়।
এদিকে এদিন দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা শুরু হয়ে তপন হয়ে মালদা জেলায় প্রবেশ করবে। সেই যাত্রায় সওয়ার হওয়ার কথা দিলীপ ঘোষ ও অন্যান্য রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের। জানা গেছে মালদাতে তিনদিন এই পরিবর্তন যাত্রা চলবে। আগামী ২ মার্চ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী মালদাতে এসে এই জোনের পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তি ঘোষনা করে জনসভা করবেন। তার সাথে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি যে পি নাড্ডা আসবেন বলে জানা গেছে। এদিকে তৃনমুলের তরফে মালদাতে এই পরিবর্তন যাত্রার বিরোধীতা করা হয়েছে। এখন দেখার নির্বাচন ঘোষনা হয়ে যাওয়ার পর এই যাত্রাকে ঘিরে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ঘটনা ঘটে কিনা, না নির্বিঘ্নেই শেষ হয় বিজেপির এই পরিবর্তন যাত্রা।

No comments:
Post a Comment