নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর: ভোটের মুখে বিজেপি করার অপরাধে দলের এক সংখ্যালঘু মোর্চার দুটি পুকুরে বিষ ছিটিয়ে কয়েক লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল এলাকার তৃনমুল ও বাম দল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে তপন থানার জাজিহার গ্রামে। পুলিশে অভিযোগ জানালে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তদন্তে নামে তপন থানার পুলিশ।
এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে স্থানীয় বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি তসলিম মন্ডলের দুটি পুকুর রয়েছে। সেই দুটি পুকুরে তিনি মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শনিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ওই পুকুরে হঠাৎ করে মাছ গুলো মরে ভেসে উঠতে দেখেন ওই পুকুরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন। তিনি সাথে সাথে খবর দেন পুকুরের মালিক তথা বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের এলাকার মন্ডল সভাপতি তসলিম মন্ডলকে। তিনি ও তার ভাই এসে দেখেন সত্যি তাদের দুটি পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠেছে। হঠাৎ করে এভাবে দুটি পুকুরেই মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। সন্দেহ হওয়ায় তারা পুকুরের চারধার খুজতে থাকে। কারন খুজতে গিয়ে তারা বিষের কৌট পুকুর পাড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরেই তাদের সন্দেহ দৃড় হয় যে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেই মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। এরপরেই তারা খবর দেয় পুলিশে। খবর পেয়ে পেয়ে তপন থানা থেকে পুলিশ আসার পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্বরাও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
সেখানে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিজেপি দলের জেলা নেতা কৃষ্ণ কুজুর অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ভোট আসছে সুতরাং যেহেতু উনি আমাদের একজন সংখ্যালঘু হয়ে বিজেপি দলের মন্ডল সভাপতি হয়েছেন। তাই তাকে ও বিজেপির প্রতি এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে জুজুর ভয় দেখানো ও বিজেপির প্রতি বিদ্বেষ পোষন করার জন্য তৃণমূল বা বাম দলের আশ্রিত দুষ্কৃতিরা তার পুকুরে বিষ মিশিয়ে মাছ গুলো মেরে ফেলেছে। যাতে উনি ভয়ে বিজেপি ছেড়ে দেন, বলে তিনি অভিযোগ জানান। তিনি আরও বলেন, 'পুলিশ তদন্তে নেমেছে, আশা করব তারা যথাযথ তদন্ত করে এব্যাপারে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেবে।'
যদিও যার পুকুরে বিষ মিশিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে সেই এলাকার সংখ্যালঘু সেলের মন্ডল সভাপতি তসলিম মন্ডলের দাবী, তার সাথে কারও শত্রুতা নাই। তবে তিনি সংখ্যালঘু হয়ে বিজেপি করার জন্য হয়তো এলাকার তৃনমূল বা বাম দলের আশ্রিত দুষ্কৃতিরা সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাতে এই কাজ করলেও করে থাকতে পারে।
অপরদিকে তপন থানার পুলিশ জানিয়েছে তারা অভিযোগ পেয়ে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment