নিজস্ব সংবাদদাতা, উওর ২৪ পরগনা: দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সাপের আতঙ্কে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছেন উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগর পুরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের নিচু কয়াডাঙা এলাকার শতাধিক পরিবার।সকাল-সন্ধ্যা-রাত সব সময়ের জন্য এলাকা জুড়ে বিষধর সাপের আনাগোনা। কয়াডাঙা এলাকার বাগানবাড়ির মধ্যে একটাই ছোট খেলার মাঠ রয়েছে কিন্তু সাপের ভয়ে সেই খেলার মাঠেও একরাশ শূণ্যতা, নেই ছোটদের চিৎকার-চেঁচামেচি, নেই কোন হৈচৈ। ফলে করোনা মহামারীর পর থেকে একদিকে যেমন স্কুল বন্ধ, অন্যদিকে সাপের আতঙ্কে খেলার মাঠে না যেতে পাড়ায় এক প্রকার হাঁপিয়ে উঠেছেন স্কুল পড়ুয়ারা।
দীর্ঘ করোনা পরিস্থিতির পরে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও অশোকনগরের এই গ্রামে ঘুরলে এখনও মনে হবে এলাকা জুড়ে পূর্ন লকডাউন চলছে। শুনশান রাস্তা ঘাট - 'কারণ একটাই সাপের ভয়! এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই গ্রামেরই একটি বাড়ী থেকে পূর্ণবয়ষ্ক একটি গোখরো সাপ উদ্ধার হয়। অশোকনগরের নিচু কয়াডাঙা এলাকার বাসিন্দা আশিস দাস নামে এক ব্যক্তির বাড়ীতে প্রতিবেশী নমিতা বিশ্বাস বিষধর সাপটি দেখতে পায়। তখন আশিস বাবুর ছেলে কৌশিক দাস ঘরের মধ্যে ছিলেন । কোনক্রমে ঘর থেকে বেরোতে সক্ষম হন। খবর জানাজানি হতে এলাকার বাসিন্দারা ঘরের সামনে ভিড় করে। দীর্ঘক্ষন ঘরের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা কেউ ঢুকতে পারেনি। পরে খবর দেওয়া হয় 'সাপ সমস্যা ও প্রতিকার' নামক একটি সর্প প্রেমী সংস্থাকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংস্থার কর্মীরা এসে সাপটিকে উদ্ধার করে। পরে সেটি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপ উদ্ধারের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বুধবার সকালে আবার এলাকায় এক জোড়া বিষধর গোখরো সাপের আনাগোনা দেখে নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। বাড়ীর ছোটদের একপ্রকার জোরপূর্বক গৃহবন্দি করে রাখছেন বলে জানিয়েছেন বাড়ীর অভিভাবকেরা।
এলাকার বাসিন্দা রূপালী মুখার্জী জানিয়েছেন, 'সাপের আতঙ্কে বাড়ীর ছোটদের নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।এমনকি ঘরের মধ্যেও সব সময় সাপের আতঙ্ক মনের মধ্যে কাজ করে, যেখানেই যাই মনে হয় এই বুঝি সাপ।'
স্কুল পড়ুয়া প্রতিপ মুখার্জী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ, মাঠে খেলাধুলাও করতে পারছি না সাপের ভয়ে, ফলে ভীষণ মন খারাপ লাগছে।
ষাটোর্ধ্ব রঞ্জন দাস জানিয়েছন, 'আমাকে এই পাড়ায় বসেই বিষধর সাপ কামড়েছিল। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসায় তখন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম।'
স্থানীয়দের দাবী, অবিলম্বে প্রশাসন বনদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে সাপের আতঙ্ক থেকে কয়রাডাঙ্গার বাসিন্দাদের মুক্ত করুক। খেলাধুলার মধ্যে দিয়ে ফিরে পাক শিশুদের হারিয়ে যাওয়া শৈশব।

No comments:
Post a Comment