নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: "বনদফতরের লোক নিয়োগ নিয়ে ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। কাজ করার ইচ্ছে থাকলে এ দলে থেকে অনেক কাজ করা যেত।" শুক্রবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে পদত্যাগী বনমন্ত্রীকে এভাবেই বাক্যবাণে বিঁধলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়কের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা উস্কে দিয়ে পার্থর খোঁচা, ‘যেখানে যাচ্ছেন বুঝবেন কতটা কাজ করা যায়।’ রাজীব সম্পর্কে তিনি আরও মন্তব্য করেন, দল ছাড়ার একটা কারণ খোঁজা হচ্ছিল। কাজ করতে পারছিলেন না, তো এতদিন কাজ করলেন কীভাবে? সেই সঙ্গে তৃণমূলত্যাগী বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল মহাসচিবের কটাক্ষ, যাঁরা তৃণমূলকে আনুগত্য দেখাতে পারল না, অথচ ক্ষমতা ভোগ করল, তাঁরা এবার বিজেপিতে গিয়ে কী করবেন সেটাই প্রশ্ন।
রাজীব ব্যানার্জীর মন্ত্রিত্ব ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পার্থ কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি এঁদের মুখগুলো ব্যবহার করতে চাইছে। এঁদের বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে যাতে তৃণমূলকে নিয়ে এঁরা বিরূপ মন্তব্য করেন। তৃণমূলের যাঁদের সম্পর্কে অভিযোগ ছিল তাঁরাই এখন গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির পুরনো কর্মীরা কোথায়? প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল মহাসচিব।
তিনি যোগ করেন, বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষমতা এমনই দুর্বল যে তাদের ভাড়া করা নেতাদের নিয়ে দল ভরাতে হচ্ছে। বাংলায় মমতার বিকল্প মুখ খুঁজতে গিয়ে পাঁচমেশালি দল তৈরি করছে বঙ্গ বিজেপি। এরপরেই তৃণমূলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে পার্থ বলেন, বিরাট বটগাছের দুটো পাতা ঝরে পড়লে গাছের কোনও ক্ষতি হয় না। নতুন পাতা জন্ম নেয়। যাঁরা অভিযোগ করে তৃণমূলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল তারা এখন বিজেপিতে। শেষে রাজীব ব্যানার্জীর মন্ত্রিত্ব ছাড়া নিয়ে পার্থ বাবুর মন্তব্য, ‘এটা যে সঠিক সিদ্ধান্ত নয়, একদিন তাঁরা বুঝবেন। ভোটে মানুষই বিচার করবে এঁদের ভূমিকা।’
প্রসঙ্গত, শুভেন্দুর দল ত্যাগের কয়েকদিন পর থেকেই বেসুরো বাজছিলেন রাজীব। দলের বিরুদ্ধে একাধিক বার অরাজনৈতিক সভা থেকে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। দল থেকে মানভঙ্গনের চেষ্টা করলেও তা কার্যত ব্যর্থ হয়। দলের একাধিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকতেও দেখা যায় রাজীবকে। তাঁর এইসকল আচরণ স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর দলবদলের ইঙ্গিত বহন করছিল। এই জল্পনার মাঝেই শুক্রবার রাজ্যের বনমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে আগামীকাল শনিবার নেতাজির জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজ্যে আসবেন প্রধানমন্ত্রী, তার আগেই রাজীবের মন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা কী পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার একটি ধাপ? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।

No comments:
Post a Comment