নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর নায়ক তথা দেশ মাতার বীর সন্তান নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর অন্তর্ধান সম্পর্কিত সব রহস্য লাল ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ। বিস্ফোরক মন্তব্য অল ইন্ডিয়া লিগ্যাল এড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তথা সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যাযয়ের। নেতাজির ১২৫ তম জন্ম বার্ষিকীর আগেই শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরলেন তিনি।
লাল ডায়েরিতে স্টালিন পুত্রি সয়েটলানা সব তথ্য সবিস্তারে লিখে গিয়েছেন। সেখানে নেতাজির রাশিয়ার জেলে শেষ পরিণতি থেকে সেই সময় কালের সব তথ্য লেখা আছে। এমনটাই দাবী জয়দীপ বাবুর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ' সয়েটলানা যখন রাশিয়া থেকে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়ে তিনি এক সাংবাদিক বৈঠক করে সব তথ্য উৎঘাটন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে বাধা দেন। এক দিনের মধ্যেই তাঁকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করেন, ফলে তাঁকে ভারত ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি দিতে হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে ছেদ পড়বে বলে তাঁকে নেতাজি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে বাধা দান করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে সয়েটলানা সেই লাল ডায়েরি লন্ডনের মাটিতে প্রকাশ করেন। যদিও আজ অবধি ভারতের কোন সরকার সেই তথ্য দেশের মাটিতে প্রকাশ করার সাহস দেখায়নি। কিন্তু এ পর্যন্ত অনেক বছর কেটে গিয়েছে ভারত স্বাধীন হয়েছে। তাই এখন আর সেই ভয় নেই। সে কারনে অবিলম্বে সেই তথ্য প্রকাশ করা হোক। দেশবাসীর জানার অধিকার আছে, নেতাজির শেষ পরিণতি সম্পর্কে জানার।'
এদিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান পরবর্তী সময়ের ওপর লেখা বিশিষ্ট আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের ‘চেকা শেষ উত্তর’ বইটির পঞ্চম সংস্করণ প্রকাশ করা হল । শুক্রবার দুপুরে কলকাতার পিয়ারলেস ইনে এক অনুষ্ঠানে এই বইটি প্রকাশ করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ব্রিগেডিয়ার দেবাশীষ দাস, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী, আইনজীবী সুরঞ্জন দাশগুপ্ত, আইনজীবী গোরাচাঁদ রায়চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপ মজুমদার।
নেতাজির ১২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, “প্রাক্তন বিচারপতি মনোজ মুখোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্টে প্রমাণ হয়েছে তাইহুকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি মারা যাননি। এবং সহায় কমিশনের রিপোর্ট প্রমাণ করে গুমনামী বাবা নেতাজি নন। তাই ভারত সরকার অবিলম্বে রাশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচন করুণ। বলা হচ্ছে ১৭টি দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হবে। কিন্তু, সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য জানতে চায় ভারতবাসী।”
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক চিরস্মরণীয় কিংবদন্তি নেতা। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তিনি হলেন এক উজ্জ্বল ও মহান চরিত্র যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত। সুভাষচন্দ্র বোস পরপর দু’বার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত এবং কংগ্রেসের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা বিরুদ্ধ-মত প্রকাশ করার জন্য তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। সুভাষচন্দ্র মনে করতেন, মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার এবং সত্যাগ্রহ নীতি ভারতের স্বাধীনতা আনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। এই কারণে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

No comments:
Post a Comment