নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: দেশের মানুষের ধারণা, আবেগ এবং বক্তব্যকে বাতিল করে দিয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম দিবস ২৩শে জানুয়ারিকে পরাক্রম দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের সরকার। গোটা দেশ এবং এই রাজ্যের মানুষের দাবী ছিল ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজির জন্ম দিবসকে দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষণা করুক কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তাকে গুরুত্ব না দিয়ে দেশকে বিপর্যয়ের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দেশপ্রেমের নামে কার্যত দেশদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতকরা রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেম দিবস ঘোষণা করা মানে স্পিরিট অফ পেট্রিয়টিজম, যা মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া ছিল অত্যন্ত জরুরী। আমাদের দেশের সরকার এই মনোভাব গ্রহণ করতে পারলো না। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এই মনোভাবকে তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার কোচবিহার সিপিএম জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে একথা বললেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা রাজ্য বিধানসভার বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।
এদিন এই সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়, পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য তমসের আলি প্রমুখ।
এদিন সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সদর দপ্তরে এই সাংবাদিক বৈঠকে সুজন চক্রবর্তী আরও বলেন, নেতাজি কি শুধু পরাক্রমশালী? পরাক্রম মানে কি? পরাক্রম মানে এককথায় দাপট দেখানো, ক্ষমতা দেখানো, বীরত্ব দেখানো। কেবলমাত্র একটা সামন্ততান্ত্রিক, সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থেকে পরাক্রম কথাটা চালু। আর নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সবসময়ই সামন্ততান্ত্রিক ধ্যান ধারণার বিরুদ্ধে ছিলেন এবং তাকে ভাঙতে চেয়েছেন প্রতিনিয়ত। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন। তাই পরাক্রম কথার মধ্য দিয়ে তাঁকে কার্যত খাটো করা হচ্ছে। দেশপ্রেম দিবস ঘোষণা করার হিম্মত দিল্লীর নেই। স্বাধীনতা সংগ্রামে যাদের কোনও দেশপ্রেমিকের ভূমিকা ছিল না তারা এখন দেশ চালাচ্ছে। তাই এটাই বক্তব্য, মোদীজি কোনভাবেই যাতে না ভাবেন তিনি সবার চেয়ে বড়। মহাত্মা গান্ধীর নেতাজিকে আখ্যা দিয়েছিলেন প্যাট্রিয়ট প্যাট্রিয়টস, রবীন্দ্রনাথ নেতাজিকে আখ্যা দিয়েছিলেন দেশনায়ক।

No comments:
Post a Comment