নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনাভাইরাসের টিকা স্বাস্থ্যকর্মীদের পর এবার পুলিশকর্মীদের দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পুলিশকর্মীদের ফোনে ইতিমধ্যেই ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ পাঠাতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। খুব শীঘ্রই তাদের টিকাকরণের কাজ শুরু হবে।
১৬ জানুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে টিকাকরণ শুরু হবে। জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় স্বাস্থ্যকর্মী এবং সামনের সারির করোনা যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সামনের সারির যোদ্ধাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি জায়গা দেওয়া হয়েছে পুলিশকর্মীদেরও। শনিবার সকাল থেকেই এই মর্মে ধন্যবাদ জানিয়ে পুলিশকর্মীদের ফোনে বার্তা পাঠাতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসকদের পরই তাঁরা। মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছে কলকাতা-রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে। কখনও মাইক হাতে কবিতা, কখনও বা নচিকেতা কিংবা সুমনের গানের লিরিক্সে সচেতনার বার্তা প্রতিস্থাপন করে মানুষের কাছে তুলে ধরা। কখনও আবার উর্দি গায়েই রাস্তায় বসে আলপনা দিতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। তুলিতেও উঠে এসেছে সেই একই বার্তা। দিনের পর দিন একেবারে রাস্তায় নেমে লড়াই চালাচ্ছেন তাঁরা। প্রয়োজনে নিয়েছেন কড়া পদক্ষেপও। এবার সেই পুলিশকেই সম্মান জানাতে রাজ্য সরকারের নয়া উদ্যোগ।
ইতিমধ্যে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের অনেক কর্মী। পুলিশের মনোবল বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে লালবাজার। এবার মেসেজ পাঠিয়ে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে পাশে থাকার বার্তা দিল রাজ্য সরকার। মেসেজে লেখা রয়েছে, "কোভিড-১৯- এর মোকাবিলায় একজন কোভিড যোদ্ধা হিসেবে আপনি যেভাবে মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সেবা করেছেন, তাঁকে সম্মান জানিয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনার কাছে কোভিড-১৯- এর ভ্যাকসিন যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। আপনি ও আপনার পরিবার সবসময় ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।" মেসেজের শেষে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
লালবাজার সূত্রে খবর, প্রায় দু’মাস ধরে পুলিশ কর্মীদের সম্পর্কে সবরকম তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক পুলিশ কর্মীর নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যভবনে। তারপরই শনিবার থেকে শুরু হয়েছে পুলিশকর্মীদের মেসেজ পাঠানো।

No comments:
Post a Comment