নিজস্ব সংবাদদাতা, নদীয়া: 'নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে দেব না। ৭১-এর আগে যারা এসেছেন তারা সকলেই নাগরিক। আমি কোনমতেই এন আর সি ও এন পি আর করতে দেব না। মতুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি। বাংলায় এসে বলছেন সোনার বাংলা গড়ে দেব। অনেক আগেই সোনার বাংলা গড়া হয়েছে, এখন বিশ্ববাংলা করব। কৃষকদের উপর জুলুম বাজির চলবে না। এ পর্যন্ত দুই কোটি মানুষ দুয়ারে সরকারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।' এভাবেই বিজেপির উদ্দেশ্যে হুঙ্কার দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদীয়ার প্রশাসনিক সভায় সোমবার রানাঘাট ছাতিমতলার মাঠে বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করেন এবং বাংলার উন্নয়নের কথা বলেন তিনি।
ভিড়ে ঠাসা বিশাল জনসভায় তিনি বলেন যে, বাংলায় কোনভাবেই ভোট কিনতে দেওয়া হবে না। বাংলার মানুষ তৃণমূলের পক্ষে আছেন, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবে। যুব থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রী সকলেই তৃণমূলের পক্ষে ভোট দেবে বলে দাবী করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড সকলেই পাবেন। তিনি এদিন দাবী করেছেন বাংলার মানুষ এ পর্যন্ত ৯০% পরিষেবা পেয়ে গেছেন।
কৃষকদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও যে সমস্ত কৃষক মারা যায় তাদের পরিবারকে দু লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। কৃষিজমি এখন মিউটেশন করতে পয়সা লাগে না, আগে কাজ হতো না শুধু রাজনীতি হত বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, কজন লোক ১৫ লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন কেউ বলতে পারবেন না। আয়ুষ্মান ও স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক আছে অথচ চিৎকার করে কেন্দ্রের লোকজন আয়ুষ্মান নিয়ে কথা বলে। তাই বলতে হয়, মিথ্যা বলার জুড়ি নেই বিজেপির। এই বাংলায় কোনোমতেই এন আর সি হবে না। কথায় নয় কাজে পরিণত হবে। হোটেলে সবাইকে চাকরি দেব প্রতিশ্রুতি দেয়। আমরা কাজ করে দেখাই তাই দুয়ারে সরকার কর্মসূচি আজ মানুষের কাছে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই কর্মসূচি আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় ইন্ডাস্ট্রি হবে। নদীয়া জেলায় ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার মানুষের মধ্যে পাট্টা দেওয়া হবে। ইসকনকে ৭০০ একর জমি দেওয়া হয়েছে। আজ লোডশেডিং হয় না। আগামী দিন লক্ষ লক্ষ কাজ তৈরি হবে তিনি জোর গলায় জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যে বাইরে কাউকে যেতে হবে না। আজ কেন্দ্রীয় সরকার রেল ব্যাংক বিএসএনএল কে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা কন্যাশ্রী, যুবশ্রী করেছি। ভোটের ভ্যাকসিন চলছে। বাংলায় ৫হাজার টাকা দিয়ে ভোট কিনবে, যা টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় না। পর্যটন হাব গড়তে জমি দেওয়া হবে। নিয়ম না মানলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। আমরা সকলেই নাগরিক। আমি নন্দীগ্রামে জমি কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি তাই কোনভাবেই জমি কেড়ে নেওয়া যাবে না। অথচ কেন্দ্র সরকার তিনটি বিল এনেছেন। আমরা বিরোধিতা করছি বারবার। সেই সাথে কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নয়া কৃষি বিল নিয়ে এসেছে আমরা বাতিলের দাবীতে আন্দোলনে নেমেছি এবং ওই কৃষক আন্দোলনের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। বিজেপি থাকলে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হবে, বলে দাবী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মিডিয়া সম্পর্কেও বলেছেন। চটে গিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়া আজ বিক্রি হয়ে গেছে। খুললেই শুধু বিজেপি আর বিজেপি হয়ে গেছে দুই-একটি বাদে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শুধু সিবিআই ও ঈদের ভয় দেখিয়ে কাগজ তৈরি করে ভয় দেখাচ্ছে তাই যারা গেছে হয়ে গেছে কালো টাকা সাদা করছে অনেকেই তাই নিজে বাঁচতে বিজেপিতে যাচ্ছে। বিজেপিতে গিলে সাতখুন মাপ এমনটাই মমতা বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে সকাল থেকে তিলক কেটে বাংলা দখল করব চিৎকার শুরু হয়েছে। আসবে কোথা থেকে? অনেক টাকা দিলেও ভোট দেবে না বাংলার মানুষ। ভাগাভাগি রাজনীতিতে বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য চান, বিনা পয়সায় পরিষেবা চান তাই মানুষ ভোট দেবে তৃণমূলকে। শেষ মুহূর্তে তিনি জানিয়েছেন যে আমাকে একটু একটু ভয় পায়। আমি মাথা বিক্রি করতে জানি না, বাংলাকে বেচতে কখনই দেব না। নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে দেব না বাংলার উন্নয়ন যথেষ্ট হয়েছে আগামী দিন বিশ্ববাংলা গড়ব।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ মহুয়া মৈত্র মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য রিক্তা কুন্ডু, সদস্য সুব্রত ঘোষ সংকর সিংহ অজয় দে অরিন্দম ভট্টাচার্য কল্লোল খাঁ সহ একাধিক জেলার নেতৃত্ব।

No comments:
Post a Comment