নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এবারে পথে মিড ডে মিলের কর্মরত মহিলারা। পথ অবরোধ বিক্ষোভ হাওড়া ময়দান চত্বরে। এদিন হাওড়া ময়দানে মিড ডে মিলে কর্মরত কয়েকশো কর্মীরা পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মূলত ১১ দফা দাবীতে তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন করে আসছেন । কিন্তু সরকার তাতে কোনরকম কর্ণপাত না করে সরকারি প্রকল্পকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে চাইছে । তাই তারা বাধ্য হয়ে আজ পথে নেমেছে । তাদের বক্তব্য মাসিক পনেরশো টাকা মাইনেতে তারা দীর্ঘদিন এই প্রকল্পের আওতায় কাজ করছেন, তবে ১২ মাসের পরিবর্তে ১০ মাসের টাকা পান তারা। বাকি দু মাস ছুটি হিসেবে থাকায় কোনওরকম পারিশ্রমিক পান না তারা । এছাড়াও অন্যান্য রাজ্যে ৪ থেকে ৯ হাজার টাকা মাসোহারা থাকলেও এ রাজ্যে তা পনেরশো টাকা।
এছাড়াও, মিড ডে মিল কর্মীদের কোন প্রকার সামাজিক সুরক্ষা, পিএফ, পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা দেওয়া হয় না। 'সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন'- এর পক্ষ থেকে বহুবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে মিড ডে মিল কর্মীদের দুরাবস্থার কথা জানানো হয়েছে। কোন ফল হয়নি। এই কর্মীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসা মহিলা। বেশিরভাগ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পরিযায়ী শ্রমিক। করোনা পরিস্থিতিতে আজ তারাও কর্মহীন। আজ মিড ডে মিল কর্মীদের বহু পরিবার অর্ধাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে মিড-ডে-মিল কর্মীরা ৬ই জানুয়ারি সকাল ১১টায় হাওড়া স্টেশনে জমায়েত হয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করেন। এই মিছিল বঙ্গবাসী মোড় পর্যন্ত আসে, এরপর পথ অবরোধ করেন তারা। তারপর প্রশাসনের অনুরোধে ডিএম অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং সেখানে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ সভা করে। এই সভায় বিভিন্ন ব্লকের মিড-ডে-মিল কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক সংগঠন এ আই ইউ টি ইউ সি'র জেলা সম্পাদক জৈমিনি বর্মন, সারাবাংলা মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের সভাপতি- সনাতন দাস ও সহ-সভাপতি নিখিল বেরা। কর্মীদের মধ্যে সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায় এবং তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার শপথ নেন। আগামী ২৬শে জানুয়ারি কলকাতায় রাজভবন অভিযানে অংশগ্রহণ করার জন্য আবেদন জানানো হয় এদিন।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দুপুরে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রচণ্ড আগুনের তাপে খাবার রান্না করা, পরিবেশন করা ও খাওয়ানো শেষ হলে বাসন ধোয়া সহ সকল কাজই মিড ডে মিল কর্মীদের করতে হয়। এত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তারা ক্ষুধার্ত থাকলেও সেখান থেকে খাবার খাওয়ার কোন আইন সঙ্গত অধিকার তাদের নেই। এত পরিশ্রম করে মিড-ডে-মিল কর্মীরা মাসে মাত্র ১৫০০টাকা পায়। এই টাকা পায় বছরে ১২ মাস নয়, মাত্র ১০ মাস।

No comments:
Post a Comment