দূষণ থেকে শহরকে বাঁচাতে রাইসমিল স্থানান্তরের প্রস্তাব থাকলেও তা এখনও অসম্পূর্ণ‌, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 8 January 2021

দূষণ থেকে শহরকে বাঁচাতে রাইসমিল স্থানান্তরের প্রস্তাব থাকলেও তা এখনও অসম্পূর্ণ‌, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা


নিজস্ব সংবাদদাতা,পূর্ব বর্ধমান: দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে বর্ধমানের আলম গঞ্জের রাইসমিল গুলি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও আজও অন্ধকারে সেই বিষয়টি।

রাইস মিল গুলি সরিয়ে ফুডপার্ক করার কথা থাকলেও বঞ্চিত এলাকাবাসী। মিল সংলগ্ন রাস্তাগুলি দিয়ে যাতায়াত করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর। ঐসকল রাইস মিল থেকে পর্যাপ্ত পরিমান সাইকোন এলাকাবাসীরকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে,  বিপর্যস্ত জনজীবন।

জানা গিয়েছে যে, এই রাজ্যে প্রায় এগারোশো রাইস মিল রয়েছে। রাজ্যের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলায় রাইস মিলের সংখ্যা প্রায় তিনশোর বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগ মিলের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধারে খোলা হয়, পাশাপাশি জেলার একটা বড় অংশের রাইস মিলের দূষিত জল চাষের জমিতে গিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। দূষণের জেরে জেলার বহু জমির স্বাভাবিক উর্বরতা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবী কৃষকদের।

রাইস মিলের জ্বালানি হিসাবে ধানের তুষ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই তুষের ধোঁয়া থেকেও চালকল সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক দূষণ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ এবং উড়ে গিয়ে বিভিন্ন ঘর-বাড়ীর উপর পড়ে। এর ফলে দূষণ মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে গেছে এবং ঐ সমস্ত এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্ট সহ নানাবিদ শারীরিক সমস্যায় দেখা দিচ্ছে প্রতিদিন এবং এলাকাবাসীর দাবী, খালি চোখে রাস্তায় বের হলে চোখে ধোঁয়া এসে পড়ে এবং চোখের ক্ষতি করে।

অনেকেই বলছেন তারা ঘরের জানালা খুলতে পারে না, রাস্তায় বের হলে রাইস মিলের চাইয়ে চোখ বন্ধ হয়ে যায় অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কোনরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি আজও। তাই রাইসমিল গুলি সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার কথা থাকলেও বিষয়টি এখনও অন্ধকারে রয়েছে।

 ২০১৮ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে আসেন, তখন রাইসমিল গুলো সরিয়ে ফুটপাত করার অনুরোধ করা হলে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সম্মতিও দিয়েছিলেন কিন্তু আজও এই কাজ সফলতা পায়নি, ফলে এলাকাবাসীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। রাইস মিল গুলো সরিয়ে না নিলে এই সমস্ত জায়গায় ফুড পার্ক গড়ে উঠবে না, এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। তাই রাইসমিল গুলি কবে অন্যত্র সরানো হবে জানেন না আলম গঞ্জের এলাকার মানুষজন। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad