তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে উত্তপ্ত গঙ্গারামপুর, নিহত তৃণমূল কর্মী - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 19 January 2021

তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে উত্তপ্ত গঙ্গারামপুর, নিহত তৃণমূল কর্মী


নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুরভোটের আগে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে পুরানো বিবাদের জেরে সংঘর্ষ, ঘটনায় আবারও উত্তপ্ত  দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর। চলল গুলি, জনতার রোষে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন এলাকার তৃণমূল নেতা তথা সদ্য নিযুক্ত দলের চেয়ারম্যানের ছায়া সঙ্গী তথা জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষ কালিপদ সরকার। অপর দিকে গুলিতে গুরুতর আহত জেলা সভাপতি বিনয় গৌতম দাসের  কাছের লোক সঞ্জিত সরকার। 


আজ সকালে ঘটনাটি ঘটেছে  দক্ষিন দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার উত্তর নারায়নপুরে। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা। খবর পেয়ে একদিকে জেলার পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্তের নেতৃত্বে বালুরঘাট থেকে বিরাট পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আসার জন্য রুট মার্চের পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে এলাকার নেতা কালিপদ সরকারের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রচুর তৃনমুল কর্মী সমর্থকেরা গঙ্গারামপুর হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়েছে। পরিস্থিতি যে কোন সময় অন্য দিকে মোড় নিলেও নিতে পারে বলে স্থানীয় মানুষের অনুমান।


পাশাপাশি এই মুহুর্তে বেসরকারি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, জেলা সভাপতির ঘনিষ্ট গুলিতে আহত সঞ্জিত সরকারকে গঙ্গারামপুর থেকে উন্নত চিকিৎসার  জন্য মালদা স্থানান্তরিত করবার সময় পথেই মৃত্যু হয়েছে। 


স্থানীয় সূত্রে খবর, 'পার্টি অফিসের দখল নিয়ে জেলা সভাপতি গৌতম দাস ও জেলা কমিটির চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্রর অনুগামীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। আজ সকালে বিবাদ চরমে ওঠায় সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাওয়ার পাশাপাশি ও তৃণমুলের স্থানীয় নেতা দুলু রায় হাসপাতালে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলা তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, 'আজ সকালে উত্তরনারায়নপুরে পার্টি অফিসে গুলিতে আহত সঞ্জিত ও অনান্যরা ক্যারাম খেলছিল।  সেই সময় তৃণমুল নেতা কালিপদ সরকার সেখানে আরও তার তিন চার সঙ্গী নিয়ে এসে পুরানো একটি ঘটনা নিয়ে সঞ্জিত সরকার ও অন্যদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।  অভিযোগ এই সময় হঠাৎ তৃণমূল নেতা কালিপদ সরকার সঞ্জিত সরকারকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তার মাথায় গুলি লাগে। এরপরেই স্থানীয়রা তা দেখতে পেয়ে কালিপদ সরকারকে ধরার জন্য তাড়া করে।  কালিপদ সরকার প্রানভয়ে দৌঁড়াতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।  

পরে স্থানীয়রা দুজনকেই গঙ্গারামপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক  সঞ্জিতকে মালদাতে রেফার করলেও কালিপদ সরকারকে মৃত বলে ঘোষনা করে। এলাকায় এই নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা। 


এর আগেও লোকসভা ও বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ও পরে বেশ কিছু শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে  সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। আর এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলের দুই গোষ্টীর সংঘর্ষে দুই জনের প্রান যাওয়ায় ভোটের আগে থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad