নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সরকারী মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে গিয়ে চূড়ান্ত নাকাল বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের চাষীরা। অগত্যা ভরসা খোলা বাজার।
সরকার নির্ধারিত সহায়ক মূল্যে কিষান মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের সাধারণ কৃষকদের। অন্তত তেমনটাই অভিযোগ ওই ব্লকের কৃষকদের একটা বড় অংশের। হয়রানি এড়াতে অগত্যা কিষান মান্ডিতে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির আশা ছেড়ে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন খোলা বাজারে আড়ৎদারের কাছে নিজেদের কষ্টে ফলানো ফসল বিক্রি করতে, যার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই কৃষকদের মধ্যে জমছে ক্ষোভ। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
আমন ধান কাটার মরসুম শুরু হতেই সারা রাজ্যের পাশাপাশি বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের কৃষকদের জন্য ছাতনা কিষান মান্ডিতে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু ধান কেনা শুরু হতেই উঠতে থাকে একাধিক অভিযোগ। কৃষকদের দাবী কিষান মান্ডিতে ধানের সহায়ক মূল্য দেওয়া হলেও ধান বিক্রি করতে গেলে ইচ্ছেমতো কুইন্ট্যাল পিছু ধান বাদ দিয়ে দাম দেওয়া হচ্ছে। ফলে লোকসান হচ্ছে কৃষকদের। ধান চাষীদের দাবী ওই কিষান মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে গেলে ধানে আবর্জনা থাকার অজুহাতে কুইন্ট্যাল পিছু আট থেকে বারো কিলো পর্যন্ত ধান বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সহায়ক মূল্যর কথা বলা হলেও আসলে ধানের দাম মিলছে তুলনায় বেশ কম। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই কৃষকরা কষ্টে ফলানো ধান বিক্রির ব্যাপারে খোলা বাজারের দিকেই ঝুঁকছে।
বিজেপির দাবী, কিষান মান্ডির মাধ্যমে ধান কেনার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করছে একশ্রেনীর দালাল চক্র। মূলত মিল মালিকদের মদতেই চাষিদের প্রতি এই বঞ্চনা চলছে। বহু ক্ষেত্রে কৃষকের নাম করে আড়ৎদাররা কিষান মান্ডিতে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করায় বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন প্রকৃত চাষীরা। তৃনমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কৃষকদের নথিপত্র দেখে তবেই তাঁদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে বলে দাবী সংশ্লিষ্ট সরকারী আধিকারিকদের। এর মধ্যে কে দালাল আর কে কৃষক তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

No comments:
Post a Comment