নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাইক চেপে বাপের বাড়ী যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রান হারালেন এক গৃহবধূ। সোমবার বিকালে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হল জগৎবল্লভপুর থানা এলাকার পোলগুস্তিয়ার দ্বীপা সমিতির বাঁধের কাছে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক লরিটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম মুর্শিদা বেগম (৩৮)। তিনি জগৎবল্লভপুর থানা এলাকার নলদার বাসিন্দা। ঘাতক লরিটিতে আগুন ধরানোর পাশাপাশি রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে উত্তেজিত জনতা। ঘটনার পর দমকলের ১টি ইঞ্জিন ও জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
জানা গিয়েছে, সোমবার বিকালে মুর্শিদা বেগম, স্বামী সেখ সিরাজের বাইকে চেপে বাপের বাড়ী আমতার বসন্তপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এদিন বিকাল সাড়ে তিনটার সময় হাওড়া-পানপুর ভায়া মুন্সিরহাট রোড ধরে স্ত্রীকে নিয়ে বাইক চালিয়ে আমতার বসন্তপুরের দিকে যাচ্ছিল সেখ সিরাজ। পোলগুস্তিয়া দ্বীপা সমিতির বাঁধের কাছে উল্টো দিক থেকে আসা একটি চাল বোঝাই লরির সঙ্গে তাদের বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় বাইক থেকে ছিটকে পড়েন মুর্শিদা বেগম ও সেখ সিরাজ। সে সময় লরির চাকায় পিষ্ট হন মুর্শিদা। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুর্শিদার শরীর। দুর্ঘটনার পর আশঙ্কজনক অবস্থায় সেখ সিরাজকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা মৃতদেহ আটকে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ শুরু করে। ঘাতক লরিটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে জগৎবল্লভপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ছুটে আসেন জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি এব্রাহিম গোরা। তারা উত্তেজিত জনতার সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় ঘন্টাখানেক বিক্ষোভ চলে। পুলিশ লরিটিকে আটক করলেও চালক ও খালাসী পালিয়ে যায়। এদিকে বিকালের এই দুর্ঘটনার জেরে হাওড়া-পানপুর ভায়া মুন্সিরহাট রোডে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লরি ওভারলোড ছিল এবং দ্রুত গতিতে ছিল। বেপরোয়াভাবে যাতাযাততের কারনেই এই দুর্ঘটনা। তাদের অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ওভারলোডিং গাড়ি যাতায়াত করে। তারা এই রাস্তায় পুলিশি নজরদারির দাবী করেন।
No comments:
Post a Comment