জয় গুহ, কলকাতা: এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল জোকার ইয়ানি সরণিতে। ওই তরুণীকে তাঁর শ্বশুরবাড়ীতে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তরুণীর দেহ বাড়ীর বাইরে বেরোতে দেওয়া হবে না বলে জানান তাঁর বাড়ীর লোকজন ও প্রতিবেশীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে হরিদেবপুর থানার পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তরুণীর শ্বশুরবাড়ীর লোকজনকে বার করে আনতে হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, ইয়ানি সরণির বাসিন্দা পাপিয়া মণ্ডল নামে ওই তরুণীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে উদ্ধার করেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে। তার পরেই মৃতার বাড়ীর লোকজন এসে দাবী করেন, ওই মৃত্যু স্বাভাবিক বা আত্মহত্যা, কোনওটাই নয়।
তরুণীর পরিবার জানায়, চার মাস আগে পাপিয়া বাড়ী থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন পাড়ারই ছেলে আবুল কালাম মিদ্যাকে। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পরে তাকে বাপের বাড়ী যেতে দেওয়া হত না। মত্ত অবস্থায় তরুণীর উপরে তার স্বামী অত্যাচার চালাতেন। এমনকি, তরুণী তার স্বামীকে মদ ছেড়ে দিতে বললেও অত্যাচার করতো, অভিযোগ এমনও। তরুণীর পরিবারের দাবী, বুধবার রাতেও মদ্যপান নিয়ে স্বামীর সঙ্গে পাপিয়ার গোলমাল হয়। তার পরেই সকালে পাপিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের অভিযোগ, তরুণীকে নামিয়ে আনার পরে তার বাড়ীর লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। তারা জানান, খবর পেয়ে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু গলায় কোনও দাগ নেই। আত্মহত্যা করে থাকলে তরুণীর গলায় ফাঁসের দাগ নেই কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছে তার পরিবার। হরিদেবপুর থানার পুলিশ অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment