নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: লকডাউনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায় বাবা। তাই বাবার সংসারে সাহায্য করতে প্লাস্টিক কারখানায় কাজ শুরু করেছিল ক্লাস সেভেনের পড়ুয়া আজিজুল রহমান। স্কুল বন্ধ থাকায় কাজ করে মায়ের হাতে তুলে দিত টাকা।
লকডাউনে মুম্বাইয়ে আটকে পড়েছিল বাবা মোস্তাফা শেখ। লকডাউনে ভিন রাজ্যে কাজ হারিয়ে ছিল বাবা। তখন চরম সমস্যায় পড়েছিল পরিবার। সেই সময়েই পরিবারের বড় ছেলে আজিজুল স্থানীয় প্লাস্টিক কারখানায় কাজ শুরু করে।
কালিয়াচকের সুজাপুর নাজিরপুরে বাড়ি আজিজুল রহমানের। গ্রামের পাশেই সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানা। সেখানেই প্লাস্টিক বাছাই ও কাটার কাজ করে এলাকার বহু যুবক। সেখানে কিছু অল্প বয়সের ছেলেরাও কাজ করে। তাদের মধ্যে আজিজুল রহমান। বর্তমানে নাজিরপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সে। প্রতিদের মত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া করে কারখানায় কাজে গিয়েছিল আজিজুল রহমান। বেলা ১১ টা নাগাদ বিস্ফোরণে ছিন্নবিন্ন হয়ে যার তার দেহ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুলে পড়াশোনা করত আজিজুল। লকডাউনে স্কুল বন্ধ তাই কারখানায় কাজ শুরু করে। অভাবি সংসারে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ শুরু করে। মোস্তাফা শেখের বড় ছেলে আজিজুল রহমান। আজিজুলের আরো তিন ভাই রয়েছে। সবার বড় আজিজুল। তাই একটু বড় হতেই সে কাজ শুরু করে। প্লাস্টিক কারখানায় ১৮০ টাকা করে দৈনিক মজুরি দেয়। সেই টাকা পরিবারের হাতে তুলে দিত আজিজুল। তার মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার সহ এলাকাবাসী।

No comments:
Post a Comment