চিকিৎসা না করে সন্তান সম্ভবা মহিলাকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সরকারি হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 19 November 2020

চিকিৎসা না করে সন্তান সম্ভবা মহিলাকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সরকারি হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে




নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর:  এক দুঃস্থ  প্রসব সম্ভবা স্ত্রী ও তার বাড়ীর লোককে দুর্ব্যবহার করে  বালুরঘাট হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল  বালুরঘাট হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ রঞ্জন কুমার মুস্তাফির বিরুদ্ধে। 

জানা গিয়েছে, মালদা জেলা নিবাসী রঘুবর রামের স্ত্রী পপি চৌধুরীর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার খানপুর এলাকায় তার বাপের  বাড়ীতে প্রসব যন্ত্রণা উঠলে তার পরিজনেরা তাকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগ যে, সেখানে কর্তব্যরত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ রঞ্জন কুমার মুস্থাফি তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং বলেন যে ওই প্রসূতীর হৃদযন্ত্রের অবস্থা ভাল না তাই মালদার দিশারী পলিক্লিনিক থেকে ওই প্রসূতীর হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি  ওই প্রসূতিকে  হাসপাতালে ভর্তি না নিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ। এতে ওই প্রসূতি  আরও অসুস্থ হয়ে পরেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ওই প্রসূতির গর্ভের সন্তান  গর্ভেই মল ত্যাগ করে কিছুটা খেয়েও নেয় বলে খবর। 

এর পর প্রসূতির বাড়ীর লোক উপায়ান্তর না দেখে অন্য এক স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য মাত্র দুশো টাকা দিয়ে একটি স্থানীয় নার্সিং হোমে ভর্তি করান এবং সেখানেই ওই মহিলার প্রসব হয়। যদিও প্রসব করাতে কোন অসুবিধা হয়নি। মা ও শিশু সুস্থই আছে। কিন্তু পরবর্তী কালে রঘুবর রামকে তার জমি বন্ধক রেখে ওই নার্সিং হোমের টাকা পরিশোধ করতে হয়। 

রঘুবর রাম এই কারনে রঞ্জন কুমার মুস্থাফির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হসপিটাল সুপারের কাছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গরীব মানুষের কথা চিন্তা করে যখন জেলায় জেলায় বিনামূল্যে উন্নতর চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরী করেছেন ঠিক তখনই রঞ্জন কুমার মুস্থাফিদের মত চিকিৎসকদের জন্য রঘুবর রামের মত  দরিদ্র মানুষ যখন নিজেদের শেষ সম্বল বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়, তখনই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর উঠে যায় প্রশ্ন। এই বিষয়ে আমরা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য জানতে জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিকের সাথে টেলিফোনে  যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন না ওঠানোয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এখন দেখার বিষয়ে এই অভিযোগের পর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কি পদক্ষেপ নেয়।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad